══════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ১২৭ নং খুতবা ══════╗ 🕌 هَلِ التَّعَدُّدُ سُنَّةٌ مُطْلَقًا؟ وَمَوْقِفُ النَّبِيِّ ﷺ مَعَ السَّيِّدَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا চার বিবাহ কি সর্বাবস্থায় সুন্নত? এবং উম্মুল মুমিনীন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে নবী ﷺ-এর জীবন


admin77 প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ন / ০
══════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ১২৭ নং খুতবা ══════╗ 🕌 هَلِ التَّعَدُّدُ سُنَّةٌ مُطْلَقًا؟ وَمَوْقِفُ النَّبِيِّ ﷺ مَعَ السَّيِّدَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا চার বিবাহ কি সর্বাবস্থায় সুন্নত? এবং উম্মুল মুমিনীন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে নবী ﷺ-এর জীবন
৫৯

╔══════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ১২৭ নং খুতবা ══════╗
🕌 هَلِ التَّعَدُّدُ سُنَّةٌ مُطْلَقًا؟ وَمَوْقِفُ النَّبِيِّ ﷺ مَعَ السَّيِّدَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا
চার বিবাহ কি সর্বাবস্থায় সুন্নত? এবং উম্মুল মুমিনীন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে নবী ﷺ-এর জীবন
╚════════════════════════════════════╝

═════════ المقدمة ═════════

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ الزَّوَاجَ سَكَنًا وَرَحْمَةً، وَأَمَرَ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ، وَفَضَّلَ نَبِيَّهُ ﷺ بِأَكْمَلِ الْأَخْلَاقِ وَأَعْظَمِ الْوَفَاءِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.

═════════ الواقعة التاريخية ═════════

عَاشَ النَّبِيُّ ﷺ مَعَ السَّيِّدَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ سَنَةً، وَلَمْ يَتَزَوَّجْ عَلَيْهَا غَيْرَهَا حَتَّى تُوُفِّيَتْ، وَكَانَ ذٰلِكَ مِنْ أَعْظَمِ صُوَرِ الْوَفَاءِ وَالْمَحَبَّةِ. وَقَدْ كَانَتْ خَدِيجَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَوَّلَ مَنْ آمَنَ بِهِ، وَوَاسَتْهُ بِنَفْسِهَا وَمَالِهَا، وَثَبَّتَتْهُ فِي أَوَّلِ الدَّعْوَةِ. وَقَالَ أَهْلُ السُّلُوكِ وَالتَّصَوُّفِ: إِنَّ فِي ثَبَاتِ النَّبِيِّ ﷺ عَلَى زَوْجَةٍ وَاحِدَةٍ طِيلَةَ هٰذِهِ الْمُدَّةِ دَلِيلًا عَلَى كَمَالِ الرَّحْمَةِ وَالْعَدْلِ وَحُسْنِ الْعِشْرَةِ، وَأَنَّ التَّعَدُّدَ لَيْسَ مَقْصُودًا لِذَاتِهِ، بَلْ يُرَاعَى فِيهِ الْعَدْلُ وَالْمَصْلَحَةُ وَالْقُدْرَةُ.

═════════ الآيات القرآنية ═════════

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
﴿فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً﴾
فَدَلَّتِ الْآيَةُ عَلَى أَنَّ التَّعَدُّدَ مُبَاحٌ وَلَيْسَ وَاجِبًا وَلَا سُنَّةً عَلَى الْإِطْلَاقِ، بَلْ مُقَيَّدٌ بِالْعَدْلِ.

وَقَالَ سُبْحَانَهُ:
﴿وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ﴾
أَيْ: لَنْ يَقْدِرَ الْإِنْسَانُ عَلَى الْعَدْلِ الْكَامِلِ فِي الْمَحَبَّةِ الْقَلْبِيَّةِ، فَيَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَتَّقِيَ الظُّلْمَ وَالْجَوْرَ.

وَقَالَ تَعَالَى:
﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾
فَالْأَصْلُ فِي الزَّوَاجِ هُوَ الْإِحْسَانُ وَالْمُعَامَلَةُ الْحَسَنَةُ.

وَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ:
﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً﴾
فَالزَّوَاجُ فِي الْإِسْلَامِ مَبْنِيٌّ عَلَى السَّكِينَةِ وَالرَّحْمَةِ لَا عَلَى الشَّهَوَاتِ الْمُجَرَّدَةِ.

═════════ الأحاديث الصحيحة ═════════

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:
«مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ، وَمَا رَأَيْتُهَا، وَلٰكِنْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا»
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.

وَفِي رِوَايَةٍ:
«إِنِّي قَدْ رُزِقْتُ حُبَّهَا»
أَيْ: أَنَّ اللَّهَ جَعَلَ مَحَبَّتَهَا فِي قَلْبِ النَّبِيِّ ﷺ.

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ:
«يَا رَسُولَ اللَّهِ، هٰذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي»
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.

وَقَالَ ﷺ:
«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ.

فَدَلَّتِ الْأَحَادِيثُ عَلَى عِظَمِ مَكَانَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، وَعَلَى أَنَّ حُسْنَ الْعِشْرَةِ وَالْوَفَاءَ مِنْ أَعْظَمِ سُنَنِ النَّبِيِّ ﷺ.

═════════ الدروس والعبر ═════════

أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ، لَيْسَ التَّعَدُّدُ غَايَةً فِي ذَاتِهِ، وَلَا يُقَالُ إِنَّ كُلَّ مَنْ تَزَوَّجَ أَرْبَعًا فَقَدْ أَصَابَ السُّنَّةَ، بَلِ السُّنَّةُ هِيَ الْعَدْلُ وَالرَّحْمَةُ وَحُسْنُ الْمُعَامَلَةِ. وَقَدْ بَقِيَ النَّبِيُّ ﷺ مَعَ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَحْدَهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ سَنَةً، فَكَانَ ذٰلِكَ أَعْظَمَ دَلِيلٍ عَلَى الْوَفَاءِ وَالْمَحَبَّةِ.

═════════ الخاتمة ═════════

فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، اتَّقُوا اللَّهَ فِي أَهْلِيكُمْ، وَتَأَسَّوْا بِالنَّبِيِّ ﷺ فِي رَحْمَتِهِ وَعَدْلِهِ وَوَفَائِهِ، وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ الْبُيُوتِ مَا بُنِيَ عَلَى التَّقْوَى وَالْمَوَدَّةِ وَالرَّحْمَةِ، وَاللَّهُ يَهْدِي إِلَى سَوَاءِ السَّبِيلِ.═════════ المقدمة (ভূমিকা) ═════════
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ الزَّوَاجَ سَكَنًا وَرَحْمَةً
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিবাহকে শান্তি ও রহমতের মাধ্যম বানিয়েছেন।
وَأَمَرَ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ
এবং ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
وَفَضَّلَ نَبِيَّهُ ﷺ بِأَكْمَلِ الْأَخْلَاقِ وَأَعْظَمِ الْوَفَاءِ
এবং তাঁর নবী ﷺ-কে সর্বোত্তম চরিত্র ও মহান বিশ্বস্ততার মাধ্যমে মর্যাদাবান করেছেন।
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।
وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানিত নবী মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ
আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার, তাঁর স্ত্রীগণ ও সকল সাহাবীর উপর রহমত বর্ষণ করুন।
═════════ الواقعة التاريخية ═════════
عَاشَ النَّبِيُّ ﷺ مَعَ السَّيِّدَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ سَنَةً
নবী ﷺ উম্মুল মুমিনীন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে পঁচিশ বছর জীবন অতিবাহিত করেছেন।
وَلَمْ يَتَزَوَّجْ عَلَيْهَا غَيْرَهَا حَتَّى تُوُفِّيَتْ
এবং তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত তাঁর উপর অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
وَكَانَ ذٰلِكَ مِنْ أَعْظَمِ صُوَرِ الْوَفَاءِ وَالْمَحَبَّةِ
এটি ছিল বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার অন্যতম মহান দৃষ্টান্ত।
وَقَدْ كَانَتْ خَدِيجَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَوَّلَ مَنْ آمَنَ بِهِ
খাদীজা রা. ছিলেন সর্বপ্রথম ঈমান গ্রহণকারী।
وَوَاسَتْهُ بِنَفْسِهَا وَمَالِهَا
এবং তিনি নিজের জান ও সম্পদ দ্বারা নবী ﷺ-কে সহযোগিতা করেছেন।
وَثَبَّتَتْهُ فِي أَوَّلِ الدَّعْوَةِ
এবং দাওয়াতের সূচনালগ্নে তাঁকে দৃঢ়তা দান করেছেন।
وَقَالَ أَهْلُ السُّلُوكِ وَالتَّصَوُّفِ
তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধির পথের ওলামাগণ বলেন—
إِنَّ فِي ثَبَاتِ النَّبِيِّ ﷺ عَلَى زَوْجَةٍ وَاحِدَةٍ طِيلَةَ هٰذِهِ الْمُدَّةِ
এত দীর্ঘ সময় নবী ﷺ-এর এক স্ত্রীর উপর অটল থাকা,
دَلِيلًا عَلَى كَمَالِ الرَّحْمَةِ وَالْعَدْلِ وَحُسْنِ الْعِشْرَةِ
পূর্ণ দয়া, ন্যায়বিচার ও উত্তম দাম্পত্য আচরণের প্রমাণ।
وَأَنَّ التَّعَدُّدَ لَيْسَ مَقْصُودًا لِذَاتِهِ
এবং বহু বিবাহ নিজেই কোনো মূল উদ্দেশ্য নয়।
بَلْ يُرَاعَى فِيهِ الْعَدْلُ وَالْمَصْلَحَةُ وَالْقُدْرَةُ
বরং এতে ন্যায়বিচার, কল্যাণ ও সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়।
═════════ الآيات القرآنية ═════════
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ﴾
“তোমরা নারীদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে, তাদের দুই, তিন অথবা চার পর্যন্ত বিবাহ করো।”
﴿فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً﴾
“অতঃপর যদি আশঙ্কা কর যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই যথেষ্ট।”
فَدَلَّتِ الْآيَةُ عَلَى أَنَّ التَّعَدُّدَ مُبَاحٌ
এই আয়াত প্রমাণ করে যে বহু বিবাহ বৈধ।
وَلَيْسَ وَاجِبًا وَلَا سُنَّةً عَلَى الْإِطْلَاقِ
কিন্তু তা সর্বাবস্থায় ফরয বা সুন্নত নয়।
بَلْ مُقَيَّدٌ بِالْعَدْلِ
বরং তা ন্যায়বিচারের শর্তসাপেক্ষ।
وَقَالَ سُبْحَانَهُ
এবং মহান আল্লাহ বলেন—
﴿وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ﴾
“তোমরা যতই চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের মাঝে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে কখনো সক্ষম হবে না।”
أَيْ: لَنْ يَقْدِرَ الْإِنْسَانُ عَلَى الْعَدْلِ الْكَامِلِ فِي الْمَحَبَّةِ الْقَلْبِيَّةِ
অর্থাৎ, অন্তরের ভালোবাসায় মানুষ পূর্ণ সমতা আনতে সক্ষম নয়।
فَيَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَتَّقِيَ الظُّلْمَ وَالْجَوْرَ
তাই তার উপর জুলুম ও অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
وَقَالَ تَعَالَى
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾
“তোমরা তাদের সাথে উত্তমভাবে জীবনযাপন করো।”
فَالْأَصْلُ فِي الزَّوَاجِ هُوَ الْإِحْسَانُ وَالْمُعَامَلَةُ الْحَسَنَةُ
অতএব বিবাহের মূলনীতি হলো সদাচরণ ও উত্তম ব্যবহার।
وَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ
এবং তিনি আরো বলেন—
﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا﴾
“এবং তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন।”
﴿لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً﴾
“যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও, এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও রহমত সৃষ্টি করেছেন।”
فَالزَّوَاجُ فِي الْإِسْلَامِ مَبْنِيٌّ عَلَى السَّكِينَةِ وَالرَّحْمَةِ
অতএব ইসলামে বিবাহ শান্তি ও রহমতের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত।
لَا عَلَى الشَّهَوَاتِ الْمُجَرَّدَةِ
শুধু প্রবৃত্তির উপর নয়।﴿وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا﴾
📖 সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩
অর্থঃ
“আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, এতীম নারীদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমত নারীদের মধ্যে থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিবাহ করো। আর যদি ভয় কর যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই (বিবাহ করো) অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী। এটা অধিক নিকটবর্তী যে, তোমরা জুলুমে পতিত হবে না।”এই আয়াতে “এতীম নারী” (الْيَتَامَىٰ) বলার পেছনে বিশেষ একটি সামাজিক প্রেক্ষাপট আছে।
জাহেলী যুগে অনেক মানুষ এতীম মেয়েদের অভিভাবক হতো। তাদের সম্পদ বা সৌন্দর্যের কারণে অভিভাবকরা নিজেরাই সেই এতীম মেয়েদের বিয়ে করত, কিন্তু তাদের ন্যায্য মোহর ও অধিকার দিত না। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ
“একজন এতীম মেয়ে তার অভিভাবকের অধীনে থাকত। তার সম্পদ ও সৌন্দর্যের কারণে অভিভাবক তাকে বিয়ে করতে চাইত, কিন্তু তার মোহর ন্যায্যভাবে দিত না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়।”
📖 সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৫৭৪
অর্থাৎ আয়াতের মূল শিক্ষা হলো—
যদি এতীম নারীদের হক আদায় করতে না পারো, তাহলে তাদের প্রতি জুলুম না করে অন্য নারীদের বিয়ে করো; দুই, তিন বা চার পর্যন্ত অনুমতি আছে। কিন্তু শর্ত হলো “عدل” অর্থাৎ ন্যায়বিচার। আর যদি ন্যায়বিচারের ভয় থাকে, তাহলে একজনই যথেষ্ট।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
আয়াতটি “চার বিয়ে করতে উৎসাহ” দেওয়ার জন্য নাযিল হয়নি; বরং “জুলুম বন্ধ” ও “নারীর অধিকার রক্ষা” করার জন্য নাযিল হয়েছে।
═════════ الأحاديث الصحيحة ═════════
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ
হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন—
«مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ»
“আমি যতটা খাদীজার প্রতি ঈর্ষান্বিত হতাম, অন্য কোনো নারীর প্রতি ততটা হইনি।”
«وَمَا رَأَيْتُهَا، وَلٰكِنْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا»
“অথচ আমি তাঁকে দেখিনি, কিন্তু নবী ﷺ তাঁর কথা খুব বেশি স্মরণ করতেন।”
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ
এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
وَفِي رِوَايَةٍ
আরেক বর্ণনায় এসেছে—
«إِنِّي قَدْ رُزِقْتُ حُبَّهَا»
“নিশ্চয়ই আমাকে তাঁর ভালোবাসা দান করা হয়েছে।”
أَيْ: أَنَّ اللَّهَ جَعَلَ مَحَبَّتَهَا فِي قَلْبِ النَّبِيِّ ﷺ
অর্থাৎ আল্লাহ নবী ﷺ-এর অন্তরে তাঁর ভালোবাসা স্থাপন করেছিলেন।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত—
أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ
জিবরাইল আ. নবী ﷺ-এর নিকট এসে বললেন—
«يَا رَسُولَ اللَّهِ، هٰذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ»
“হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদীজা আসছেন।”
«فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي»
“তিনি আপনার নিকট এলে তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিন।”
رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ
এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
وَقَالَ ﷺ
এবং নবী ﷺ বলেছেন—
«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম; আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।”
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
এটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
فَدَلَّتِ الْأَحَادِيثُ عَلَى عِظَمِ مَكَانَةِ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا
এই হাদীসগুলো খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মহান মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
وَعَلَى أَنَّ حُسْنَ الْعِشْرَةِ وَالْوَفَاءَ مِنْ أَعْظَمِ سُنَنِ النَّبِيِّ ﷺ
এবং এও প্রমাণ করে যে উত্তম দাম্পত্য আচরণ ও বিশ্বস্ততা নবী ﷺ-এর মহান সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
═════════ الدروس والعبر ═════════
أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ
হে মুমিনগণ!
لَيْسَ التَّعَدُّدُ غَايَةً فِي ذَاتِهِ
বহু বিবাহ নিজেই কোনো মূল লক্ষ্য নয়।
وَلَا يُقَالُ إِنَّ كُلَّ مَنْ تَزَوَّجَ أَرْبَعًا فَقَدْ أَصَابَ السُّنَّةَ
এবং এমনও বলা যাবে না যে, যে চারটি বিবাহ করলো সে-ই সুন্নতের উপর রয়েছে।
بَلِ السُّنَّةُ هِيَ الْعَدْلُ وَالرَّحْمَةُ وَحُسْنُ الْمُعَامَلَةِ
বরং প্রকৃত সুন্নত হলো ন্যায়বিচার, দয়া ও উত্তম আচরণ।
وَقَدْ بَقِيَ النَّبِيُّ ﷺ مَعَ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَحْدَهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ سَنَةً
আর নবী ﷺ খাদীজা রা.-এর সাথেই এককভাবে পঁচিশ বছর অতিবাহিত করেছেন।
فَكَانَ ذٰلِكَ أَعْظَمَ دَلِيلٍ عَلَى الْوَفَاءِ وَالْمَحَبَّةِ
অতএব এটি ছিল বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রমাণ।
═════════ الخاتمة ═════════
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ
হে আল্লাহর বান্দাগণ!
اتَّقُوا اللَّهَ فِي أَهْلِيكُمْ
তোমরা তোমাদের পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।
وَتَأَسَّوْا بِالنَّبِيِّ ﷺ فِي رَحْمَتِهِ وَعَدْلِهِ وَوَفَائِهِ
এবং নবী ﷺ-এর দয়া, ন্যায়বিচার ও বিশ্বস্ততার অনুসরণ করো।
وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ الْبُيُوتِ مَا بُنِيَ عَلَى التَّقْوَى وَالْمَوَدَّةِ وَالرَّحْمَةِ
এবং জেনে রাখো, সর্বোত্তম ঘর সেই ঘর যা তাকওয়া, ভালোবাসা ও রহমতের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
وَاللَّهُ يَهْدِي إِلَى سَوَاءِ السَّبِيلِ
আর আল্লাহই সরল পথের হিদায়াত দান করেন।۝۝۝۝۝۝۝۝
”╚════════════════════════╝╔══════🔷الْخُطْبَةُ الجُمُعَةِ الثَّانِيَةُজুমার ۝নামাজের সানী খুতবা لِلْجُمُعَةِ – ③ جُزْءُ الثَّالِث ۝ ۝ ۝ ۝ ۝ ۝۝۝۝۝۝۝۝
الحمدُ للهِ الذي أظهرَ نورَ الحبيبِ في أفقِ الوجود، وجعلَ عيدَ مولدِ حبيبِنا ومولانا سيِّدِنا محمدٍ ﷺ فرحًا وسرورًا للعالمين، وبمجيءِ النبيِّ ﷺ إلى الدنيا أشرقتِ الأرضُ نورًا، وسرًّا من أسرارِ لطفِه المخزون.
والصلاةُ والسلامُ على سيِّدِنا ومولانا محمّدٍ ﷺ، شمسِ الهدايةِ، وبدرِ الكمالِ، ومظهرِ أنوارِ المحبّةِ والجمالِ، وعلى آلهِ الطاهرين، وصحابتِه الغرِّ الميامين، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يومِ الدين.أمّا بعدُ؛يا أيُّها الحاضرون الكرام،
إنَّ هذا الذي نُحدِّثُكم به اليوم في هذه الخُطبةِ إنَّما هو أنوارُ المحبّةِ والسلامِ والقيامِ في رحابِ مولدِ خيرِ الأنامِ ﷺ، قد جمعناه تعظيمًا لمقامِ حضرةِ المصطفى ﷺ، وإظهارًا لما أودعَهُ اللهُ تعالى في قلوبِ المؤمنين من محبّتِه الشريفة، وقيامًا بواجبِ الأدبِ والتوقيرِ لجنابِه العظيمِ ﷺ، فاسمعوا بقلوبٍ خاشعةٍ، وذُكِّروا أنفسَكم بنورِ المحبّةِ والاتباعِ..”عِطْرًا، اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى سَيِّدِنَا حَبِيبِ الْمُصْطَفَى، سِرِّ الْعَالَمِينَ، نُورِ الْمُجَسَّمِ، رَحْمَةٍ مُّهْدَاةٍ، شَمْسِ الْهُدَى، مُحَمَّدٍ وَآلِهِ، صَلَاةً تَمْلَأُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَبِعَدَدِ كُلِّ ذَرَّةٍ مِائَةَ أَلْفِ أَلْفِ مَرَّةٍ، وَبَارِكْ وَسَلِّمْ دَائِمًا أَبَدًا اللَّهُمَّ لا تَجْعَلْ صَلَاتَنَا صيامنا وقيامناوَتِلَاوَتَنَا لِلْقُرْآنِا وركوعنا وسجودنا، وَذِكْرَنَا وَمَوْلِدَنَا وَالصَّلَوَاتِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَالسَّلَامَ قِيَامَ الشَّرِيفِ وَصَدَقَاتِنَا، وَجَمِيعَ أَعْمَالِنَا الصَّالِحَةِ.آخِرَ عَمَلِنَا، وَتَقَبَّلْهَا مِنَّا تَقَبُّلًا حَسَنًا، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ. تَقَبَّلْ مِنَّا . اجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الْمَقْبُولِينَ، وَلَا تَجْعَلْنَا مِنَ الْمَحْرُومِينَ.
،، اللهم أعده علينا أعواماً عديدة وأزمنة مديدة ونحن في صحةٍ وعافيةٍ وإيمان..اللهم اجعل هذا البلد آمناً مطمئناً، وسائر بلاد المسلمين، اللهم انشر السلام والرحمة، وارفع عنا الفتن ما ظهر منها وما بطن.
اللهم أصلح أحوال المسلمين، وبارك في أرزاقهم، وارفع درجاتهم، وحقق لهم التقدم في الدين والدنيا، واجعلهم من عبادك الصالحين.اللهم عليك بالظالمين فإنهم لا يعجزونك، اللهم خذهم أخذ عزيزٍ مقتدر، وأرنا فيهم عجائب قدرتك، اللهم من أراد بالإسلام والمسلمين سوءاً فاجعل كيده في نحره.اللهم انصر المظلومين في كل مكان، اللهم كن لهم معيناً ونصيراً، وفرج كربهم، واشف جرحاهم، وارحم شهداءهم، واجعلهم من أهل الجنة.
اللهم ارزقنا شفاعة نبيك محمد ﷺ يوم القيامة، واسقنا من يده الشريفة شربةً هنيئة لا نظمأ بعدها أبداً.
اللهم احشرنا تحت لوائه، واجعلنا من أهل سنته، وارزقنا محبته ومحبّة آله وأصحابه.اللهم ارزقنا صحبة الأولياء والصالحين، واجعلنا من أهل الذكر والمعرفة، ونوّر قلوبنا بنورك، واملأها بحبك يا رب العالمين.
اللهم اختم لنا بالحسنى، واجعل آخر كلامنا من الدنيا لا إله إلا الله محمد رسول الله.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ ﷺ،النُّورِ الْمُجَسَّمِ، وَالسِّرِّ الْمُعَظَّمِ،الَّذِي خَلَقْتَهُ أَوَّلَ الْخَلْقِ،وَجَعَلْتَهُ مَظْهَرَ نُورِكَ،وَرَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর