
ঘিলাতলা নিবাসী উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল, তাজেদারে শরিয়ত, রাহনুমায়ে তরিকত, বাহারুল উলুম, কুতুবুল আলম
হযরত ছৈয়দ হাছান আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন এক অনন্য আলোকবর্তিকা—যাঁর জীবন ছিল শরিয়ত ও তরিকতের সুসমন্বয়ে গঠিত এক পূর্ণাঙ্গ আদর্শ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন
১৬ জানুয়ারি ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দ,
১৩ই মাঘ ১২৪৪ বঙ্গাব্দ,
১৯শে শাওয়াল ১২৫৩ হিজরি,
মঙ্গলবার, শেষ রজনীতে।
জন্মস্থান ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন ত্রিপুরা অঞ্চলের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী ঘিলাতলা ছৈয়দ বাড়ি—যা জ্ঞান, তাকওয়া ও আধ্যাত্মিকতার এক প্রসিদ্ধ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
তাঁর পিতা ছিলেন আওলাদে রাসূল, সম্মানিত বুযুর্গ
হযরত ছৈয়দ আমজাদ আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি,
এবং মাতা ছিলেন পরহেজগার ও নেককার মহিলা
বিবি ফাতিমা খাতুন রাহমাতুল্লাহি আলাইহা।
শৈশব থেকেই তিনি ইলম, তাকওয়া, ইবাদত ও রুহানিয়াতের অনুপম নিদর্শন বহন করতেন। পরবর্তীতে তিনি উপমহাদেশে শরিয়ত-তরিকতের এক বলিষ্ঠ স্তম্ভে পরিণত হন এবং অসংখ্য সালেক-মুরিদের আত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে খিদমত আঞ্জাম দেন।আলহামদুলিল্লাহ।
উস্তাদবৃন্দ ও সিলসিলা পরিচয়
দারুল উলুম কানপুরে অবস্থানকালে হযরত ছৈয়দ হাছান আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তৎকালীন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও আরিফ-বিল্লাহ বুযুর্গদের সান্নিধ্য লাভ করেন। বিশেষভাবে তিনি উপকৃত হ
প্রধান উস্তাদ ও মুর্শিদ
ইমামে আহলে সুন্নাত,
মাহতাবে শরিয়ত,
রাহনুমায়ে তরিকত, ইমামে আহলোসসুন্নাহ
আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি
—যিনি একাধারে ছিলেন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, মানতিক ও কামেল সুফি শায়খ।
তাঁর তত্ত্বাবধানে ছৈয়দ হাছান আলী রাহঃ কেবল কিতাবি ইলমেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং—
ইলমে যাহির (শরিয়ত)
ইলমে বাতিন (তরিকত)
তাজকিয়াতুন নাফস
ইখলাস ও ফানা-ফিল্লাহ
—এই সবকিছুর সমন্বয়ে এক পরিপূর্ণ আলেমে রাব্বানী হিসেবে গড়ে ওঠেন।
তরিকতি সিলসিলা মোরদে বরহক মাহতাবে শরিয়ত রাহনুমায়ে তরিকত ইমামে আহলোসসুন্নাহ আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতি রাহঃ তিনার বাবা মোরশেদে বরহক ফজলে ইমাম খয়রাবাদী রাহঃ ফয়েজানে সাজরায়ে সিদরার নিচ থেকে কাদিরিয়া তরিকার খেলাফত দান করেন।” পড়ে আল্লামা ধোমন দেহলভী চিশতী রাহঃ এর কাছথেকে চিশতিয়া তরিকার খেলাফত লাভ করেন। বাহারুল উলুম কুতুবুল আলম তাজেদারে শরিয়ত রাহনুমা এ তরিকত ছৈয়দ হাছান আলী রাহঃ ফয়েজানে সাজরায়ে সিদরার খেদমত সহ তাফসিরে রুহুল বয়ান তাফসিরে নাসায়ী শরিফ মাউলিদে বার জান্জি শরিফ দালায়েলুল খায়রাত কিতাব পাঠ
করেন ও কাদরিয়া চিশতিয়া সুফি তরিকার মাধ্যমে ফায়েজপ্রাপ্ত হন খেলাফত অর্জন করেন।
১. কাদরিয়া তরিকা
সিলসিলা পৌঁছে যায়— সুলতানুল আওলিয়া হযরত শায়খ ছৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী রাহঃএর নূরানি ধারায়। ২. চিশতিয়া তরিকা যার মূল উৎস— খাজা গরিবে নেওয়াজ হযরত মঈনুদ্দিন চিশতী রাহঃএই দুই তরিকার সমন্বয়ে তিনি ছিলেন শরিয়তের সুদৃঢ়, তরিকতের গভীর, হাকীকতের প্রাজ্ঞ।এবং বংশগত ছিল ছিলা বাংলাদেশের সুলতানুল আওলিয়া হজরত বাবা শাহ জালাল ইয়ামেনী মুজাররাদী রাহঃ প্রধান খলিফা ও সেনাপতি হজরত ছৈয়দ নাসির উদ্দীন সিপাহি সালা রাহঃ যিনি গাজিয়ে কারবালা ইমাম সাজ্জাদ জয়নুল আবেদীন রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুর আওলাদের আওলাদ বাংলা দেশে আমাদের প্রথম পুরুষ। চুনারুঘাট মুড়ার বন্দ মাজার শরিফ. যিনি ওয়াছিয়ত করেছিলেন আমার এন্তেকালের পর আমার পীরও মোরশেদ শাহ জালাল হুজুর কেবলা’র মাজার শরিফের দিকে মুখ করে দাফন করবে যেহেতু এলমী নজরে জায়েজ হবে কি এ ব্যাপারে মতত পার্থক্য দেখা দেওয়ায় ওলামা আমাদের বংশীয় ওলামা গন বলেন যে না ডান কাতও কাবা মুখি করে দাফন করাহোউক এবং দাফন এর পর বিকট শব্দে আওয়াজ হয় এবং কাবা শরিফের দিকে মাতা ও পর্ব দিকে পায়ের দিক চলে আসে যা আজ ও মহান অলীর কেরমত হিসাবে বিদ্দমান। রাতে স্বপ্নে বলেন আমি মাজা ব্যাথা পেয়েছি গোরতে যা আজ ও আমাদের বংশীয় লোকজন ভোক করে। কেরামত হিসেবে চল মান। বাহারুল উলুম কুতুবুল আলম তাজেদারে শরিয়ত রাহনুমা এ তরিকত ছৈয়দ হাছান আলী রাহঃ এর খেলাফত লাভের তাৎপর্য
আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী রাহঃ কর্তৃক প্রদত্ত খেলাফত ছিল—সাধারণ অনুমতি নয় বরং পরিপূর্ণ খেলাফত (خلافة تامة)যার মাধ্যমে তিনি—মুরিদ গ্রহণ যিকির ও ওযিফা শিক্ষা আত্মশুদ্ধির তালীম
দাওয়াত ও রুহানি তাসাররুফ সব ক্ষেত্রেই স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।হুজুর বলেন নিজের সংশোধন আগে পরে অপরের সংশোধন এর দাওয়াত ও তালিম দিবে।
এ খেলাফত প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন—
ইলম ও আমলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ,
শরিয়ত ও তরিকতের বিশ্বস্ত প্রতিনিধি।
সিলসিলা-এ-কাদরিয়া চিশতিয়া খয়রাবাদিয়া ফায়েজে রাব্বানিয়া দরবার শরীফ উত্তর গ্রাম, আঞ্জুমানে হাছানিয়া দরবার শরীফ বুড়িচং, কুমিল্লা।
সূচনা
সিলসিলা-এ-কাদরিয়া চিশতিয়া খয়রাবাদিয়া ফায়েজে রাব্বানিয়া উপমহাদেশের একটি প্রাচীন, প্রামাণ্য ও ফয়েজপূর্ণ রূহানী ধারা—যার কেন্দ্রবিন্দু হল উত্তর গ্রাম, আঞ্জুমানে হাছানিয়া দরবার শরীফ বুড়িচং, কুমিল্লা।
এই সিলসিলার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলিয়ে কামেল, তাজেদারে শরিয়ত, রাহনুমায়ে তরিকত, বাহারুল উলুম, কুতুবুল আলম—হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী হুজুর কেবলা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)।
তিনি ছিলেন শরিয়ত ও তরিকতের সুসমন্বয়ে গঠিত এক পূর্ণাঙ্গ আলেমে রাব্বানী, যাঁর জীবন ও কর্ম উপমহাদেশে রূহানিয়াত, ইলম ও দাওয়াতের এক দীপ্ত অধ্যায় রচনা করেছে।
শিক্ষা ও দীক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা তিনি পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার জন্য তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত দারুল উলুম কানপুর-এ গমন করেন। সেখানে তিনি কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, মানতিক, বালাগাত ও তাসাউফে অসাধারণ পারদর্শিতা অর্জন করেন।
এই সময়ে তিনি ইমামে আহলুস সুন্নাহ,মাহতাবে শরিয়ত মুরশিদে বরহক আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতী (রহঃ)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর কাছ থেকেই তিনি কাদরিয়া ও চিশতিয়া তরিকার পরিপূর্ণ খেলাফত ও পীর-মুরিদীর ইজাজত লাভ করেন (৫ই জমাদিউস সানি ১২৭২ হিজরি / ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)৩০শে মাঘ১২৬২ বাংলা মঙ্গলবার।
খিলাফত ও দাওয়াতি মিশন
খিলাফত লাভের পর মোরশেদে বরহক রাহনুমা এ তরিকত তাজেদারে শরিয়ত হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী (রহঃ) উপমহাদেশে দাওয়াত, তাজকিয়া ও রূহানী সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রাক্কালে তিনি তিনার পীর মোরশেদ ইমামে আহলোসসুন্নাহ মাহতাবে শরিয়ত মোরশেদে বরহক রাহনুমা এ তরিকত ইমামে আহলোসসুন্নাহ আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতি রাহঃ এর সাথে ইংরেজবিরোধী ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এবং আল্লামা খয়রা বাদী কাদরী চিশতি রাহঃ কে দাওয়াত করেন। এবং আপন পীর ও মোরশেদ কেবলা কে আসার জন্য তিন টি হাতি প্রেরণ করেন। হাতি গুলো অযোধ্যার খয়রাবাদ, জেলা সীতাপুর।পৌঁছাতে ই মোরেশেদে বর হক মাহতাবে শরিয়ত রাহনুমায়ে তরিকত ইমামে আহলোসসুন্নাহ আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতি রাহঃ মাওলানা গোলাম রসূল মেরঠী (রহঃ), মাওলানা আহসান উল্লাহ লখনবী (রহঃ), মাওলানা গোলাম গাউস কানপুরী (রহঃ) এবং হাফিজ আব্দুল্লাহ ফৈজাবাদী (রহঃ) গনদের কে নিয়ে ।১৮৫৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার দিবাগত রাত্রিতে, বাহারুল উলুম কুতুবুল আলম তাজেদারে শরিয়ত রাহনুমায়ে তরিকত ছৈয়দ হাছান আলী রাহঃ এর পুরাতন বাড়ির উত্তর পাশে নতুন বাড়িতে , যার একাংশ ঘিলাতলা মৌজায় এবং অপরাংশ উত্তর গ্রাম মৌজায় অবস্থিত ছিল। এই বাড়িতে পৌছেন। এবং ১০ ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার যোহর নামাজ থেকে উরছ মাফিলের কার্যক্রম জিকির মিলাদ ও সালামে কিয়াম শরিফের মাধ্যমে শুরু করেন।
দরবার প্রতিষ্ঠা ও মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবারের মাহফিল
মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মিলাদ, কিয়াম ও তালীমের মাহফিল থেকেই বর্তমান উরস শরীফের ধারাবাহিক সূচনা হয়। যদিও লোকমুখে একে ‘ঘিলাতলার হুজুরের মাহফিল’ বলা হতো, প্রকৃতপক্ষে মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো উত্তর গ্রাম মৌজায়।
ঘিলাতলায় প্রত্যাবর্তন ও দাওয়াতি কার্যক্রম
ঘিলাতলায় প্রত্যাবর্তন
দারুল উলুম কানপুরে ইলমে যাহির ও বাতিনে পূর্ণতা অর্জন এবং মোরশেদে বরহক রাহনুমা এ তরিকত মাহতাবে শরিয়ত ইমামে আহলোসসুন্নাহ আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী (রহঃ)–এর নিকট থেকে কাদরিয়া ও চিশতিয়া তরিকার পূর্ণ খেলাফত লাভের পর হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী হুজুর কেবলা (রহঃ) নিজ জন্মভূমি ঘিলাতলায় প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তন ছিল কেবল ভৌগোলিক নয়; বরং তা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ রূহানী আন্দোলনের সূচনা।
তৎকালীন সমাজে অজ্ঞতা, কুসংস্কার, নৈতিক অবক্ষয় ও ঔপনিবেশিক শাসনের চাপ একযোগে মানুষকে দ্বীন ও আত্মিক পথ থেকে বিচ্যুত করছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রত্যাবর্তন সাধারণ মানুষের জন্য ছিল রহমতস্বরূপ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শরিয়তভিত্তিক তরিকত এবং তরিকতভিত্তিক সমাজসংস্কারই এই অঞ্চলের মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন।
দাওয়াতি কর্মসূচি
ঘিলাতলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তিনি যে দাওয়াতি কর্মসূচি গ্রহণ করেন, তার মূল স্তম্ভ ছিল—
বিশুদ্ধ আকিদা প্রতিষ্ঠা
ফরজ-ওয়াজিব পালনে উদ্বুদ্ধকরণ
বিদআত ও কুসংস্কার পরিহার
তাসাউফের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি
উম্মাহর ঐক্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা
তিনি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস পাঠ, ফিকহি মাসআলা শিক্ষা ও নসিহতমূলক বয়ান প্রদান করতেন। তাঁর মজলিসে শরিয়তের কঠোরতা ও তরিকতের কোমলতা একত্রে প্রতিফলিত হতো।
ব্রিটিশ শাসন ও সামাজিক চেতনা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রাক্কালে তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত রূপ নেয়। তিনি প্রত্যক্ষ বিদ্রোহে অংশ না নিলেও, মুসলমানদের মধ্যে আত্মমর্যাদা, ঈমানি সাহস ও ঐক্যের বোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর বয়ান ও নসিহত মুসলমান সমাজকে আত্মপরিচয় সচেতন করে তোলে এবং পরাধীনতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে।
—
মুরিদান ও খলিফাগণের বিস্তার
পীর-মুরিদ সম্পর্কের সূচনা
ঘিলাতলায় প্রত্যাবর্তনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর চারপাশে ইলমপিয়াসু ও হেদায়াতপ্রত্যাশী মানুষের সমাগম শুরু হয়। তিনি কখনো কাউকে জোর করে মুরিদ বানাননি; বরং তাঁর ইখলাস, আমল ও নূরানী ব্যক্তিত্ব মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর দিকে আকৃষ্ট করত।
মুরিদ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন—
1. আকিদার বিশুদ্ধতা
2. নামাজ ও ফরজ পালনের দৃঢ়তা
3. পীরের আদব ও আনুগত্য
প্রাথমিক মুরিদবৃন্দ
ঘিলাতলা ও উত্তর গ্রামের বহু সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার ব্যক্তি তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—
গোলাম হোসেন মনু সরদার
শেখ সিরাজুল ইসলাম মেম্বার
গাজী সুরুজ মিঞা।
আব্দুল মজিদ খান
জুলফু মিয়া ডাক্তার
ময়নাল খান সহ হাজারো মানুষ।
এই মুরিদগণ পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় দ্বীনি খেদমত ও সমাজসংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
খলিফা নিযুক্তি ও বিস্তার
হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী (রহঃ) কেবল সংখ্যায় মুরিদ বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেননি; বরং যোগ্যতা, তাকওয়া ও ইলমের ভিত্তিতে খলিফা নিযুক্ত করতেন। তাঁর খলিফাগণ কাদরিয়া ও চিশতিয়া তরিকার আদব ও নিয়ম অনুযায়ী যিকির, তাজকিয়া ও দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করতেন।
ক্রমে এই সিলসিলার প্রভাব ত্রিপুরা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে।
কারামত ও আধ্যাত্মিক প্রভাব
কারামতের ধারণা
হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী (রহঃ) নিজে কখনো কারামত প্রচার করতেন না। তিনি বলতেন—“কারামত নয়, ইস্তিকামতই অলির প্রকৃত অলংকার।” তবুও তাঁর জীবনে এমন বহু ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা তাঁর আল্লাহ-নৈকট্য ও রূহানী মর্যাদার সাক্ষ্য বহন করে।
নূরানী ব্যক্তিত্ব ও দোয়ার কবুলিয়ত
অনেকেই বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর দিকে তাকালে অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসত। বিপদগ্রস্ত মানুষ তাঁর কাছে এসে দোয়া চাইলে আল্লাহর রহমতে সমস্যার সমাধান হতো। রোগমুক্তি, মানসিক শান্তি ও পারিবারিক কলহ নিরসনের অসংখ্য ঘটনা লোকমুখে প্রসিদ্ধ।
স্বপ্ন ও ইলহাম
তাঁর ওফাতের পরও বহু মানুষ তাঁকে স্বপ্নে দেখে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন বলে বর্ণনা করেন। বিশেষত মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবারের মাহফিল সংক্রান্ত স্বপ্ন ও ইলহাম দরবারের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
—
ওফাত, মাজার শরিফ ও উরসের ইতিহাস
ওফাত
হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী হুজুর কেবলা (রহঃ) ১০ই পৌষ ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ, সোমবার, নিজ আবাসভূমিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাতের সংবাদে গোটা অঞ্চল শোকাহত হয়ে পড়ে।
মাজার শরিফ
তাঁর পবিত্র মাজার শরিফ উত্তর গ্রাম মৌজায় অবস্থিত। এটি কেবল একটি সমাধিস্থল নয়; বরং রূহানী ফয়েজ ও নূরের কেন্দ্র। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত ও আশেকান এখানে উপস্থিত হয়ে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করেন।
উরস শরিফ
মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার তাঁর উরস শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এই উরস শরিফে মিলাদ, কিয়াম, যিকির, ওয়াজ ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁর রূহের প্রতি ইসালে সওয়াব পেশ করা হয়। শতাধিক বছর ধরে এই উরস শরিফ নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এই দরবারের প্রামাণ্যতা ও রূহানী স্থায়িত্বের উজ্জ্বল নিদর্শন।
উপসংহার
হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী হুজুর কেবলা (রহঃ)-এর জীবন ছিল ইলম, আমল, তাসাউফ ও সমাজসংস্কারের এক অনন্য সমন্বয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিলসিলা ও দরবার আজও মানুষকে আল্লাহমুখী হওয়ার পথে আহ্বান জানাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এই ফয়েজপূর্ণ ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
1️ ঘিলাতলায় প্রত্যাবর্তন ও দাওয়াতি কার্যক্রম
– ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
– সমাজ সংস্কার
– শরিয়ত-তরিকতের সমন্বিত দাওয়াত
– ব্রিটিশ শাসনকালীন প্রভাব
2 মুরিদান ও খলিফাগণের বিস্তার
– পীর-মুরিদ সম্পর্কের আদব
– প্রাথমিক মুরিদবৃন্দ
– যোগ্য খলিফা নিযুক্তি
– সিলসিলার ভৌগোলিক বিস্তার
3 কারামত, আধ্যাত্মিক প্রভাব, ওফাত, মাজার ও উরসের ইতিহাস
– কারামতের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা
– দোয়ার কবুলিয়ত ও রূহানী ফয়েজ
– ওফাতের ঘটনা
– মাজার শরিফের গুরুত্ব
– মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবারের উরস শরিফ
আপনার মতামত লিখুন :