═🔷 ১৩৬ নং খুতবা জুম্মার প্রথম খুতবা ╝ حَقِيقَةُ صُرَاخِ الْمَيِّتِ وَفَضْلُ الْمُشَارَكَةِ فِي الْجَنَازَةِ وَالدَّفْنِ عِنْدَ أَهْلِ الطَّرِيقَةِ وَالتَّصَوُّفِ ╚═“মৃত ব্যক্তির আহাজারির বাস্তবতা এবং তরিকত ও তাসাউফপন্থীদের নিকট জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণের ফযিলত”


admin77 প্রকাশের সময় : মে ২৮, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন / ০
═🔷 ১৩৬ নং খুতবা জুম্মার প্রথম খুতবা ╝ حَقِيقَةُ صُرَاخِ الْمَيِّتِ وَفَضْلُ الْمُشَارَكَةِ فِي الْجَنَازَةِ وَالدَّفْنِ عِنْدَ أَهْلِ الطَّرِيقَةِ وَالتَّصَوُّفِ ╚═“মৃত ব্যক্তির আহাজারির বাস্তবতা এবং তরিকত ও তাসাউফপন্থীদের নিকট জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণের ফযিলত”
৪৯

══🔷 ১৩৬ নং খুতবা জুম্মার প্রথম খুতবা ╝
حَقِيقَةُ صُرَاخِ الْمَيِّتِ وَفَضْلُ الْمُشَارَكَةِ فِي الْجَنَازَةِ وَالدَّفْنِ عِنْدَ أَهْلِ الطَّرِيقَةِ وَالتَّصَوُّفِ
╚═“মৃত ব্যক্তির আহাজারির বাস্তবতা এবং তরিকত ও তাসাউফপন্থীদের নিকট জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণের ফযিলত”═ المقدمة ═══╝
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَ الْمَوْتَ بَابًا لِلِانْتِقَالِ مِنْ دَارِ الْفَنَاءِ إِلَى دَارِ الْبَقَاءِ، وَجَعَلَ تَشْيِيعَ الْجَنَائِزِ وَحُضُورَ الدَّفْنِ مِنْ شَعَائِرِ الْإِيمَانِ وَالرَّحْمَةِ، وَأَمَرَنَا بِالِاعْتِبَارِ بِالْمَوْتِ وَالدُّعَاءِ لِلْمُسْلِمِينَ، وَنُصَلِّي وَنُسَلِّمُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الَّذِي ذَكَّرَ الْأُمَّةَ بِالْآخِرَةِ وَالْمَوْتِ وَالْقُبُورِ.
╚══ الواقعة التاريخية ═══╝
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا مَرَّ بِالْقُبُورِ سَلَّمَ عَلَى أَهْلِهَا وَدَعَا لَهُمْ بِالرَّحْمَةِ، وَكَانَ الصَّحَابَةُ رِضْوَانُ اللّٰهِ عَلَيْهِمْ يُسَارِعُونَ إِلَى حُضُورِ الْجَنَائِزِ وَالدَّفْنِ ابْتِغَاءَ الْأَجْرِ وَالِاعْتِبَارِ. وَقَدْ ذَكَرَ أَهْلُ التَّصَوُّفِ أَنَّ الْمَيِّتَ يَحْتَاجُ بَعْدَ الْمَوْتِ إِلَى الدُّعَاءِ وَالِاسْتِغْفَارِ وَالصَّدَقَةِ، وَكَانَ الْإِمَامُ الْغَزَالِيُّ رَحِمَهُ اللّٰهُ يَقُولُ: “مَنْ أَكْثَرَ ذِكْرَ الْمَوْتِ رَقَّ قَلْبُهُ وَقَلَّ تَعَلُّقُهُ بِالدُّنْيَا”. وَكَانَ الْأَوْلِيَاءُ يَحْضُرُونَ الْجَنَائِزَ تَوَاضُعًا وَتَذَكُّرًا لِلْآخِرَةِ.
╚═══ الآيات القرآنية ════╝
قَالَ اللّٰهُ تَعَالَى:﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ﴾[آل عمران: ١٨٥]
قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ: أَيْ لَا بُدَّ لِكُلِّ مَخْلُوقٍ مِنْ مَوْتٍ وَانْتِقَالٍ إِلَى الْآخِرَةِ.وَقَالَ تَعَالَى:ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ ۝ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾[المؤمنون: ١٥-١٦]
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ: فِي الْآيَةِ تَذْكِيرٌ بِفَنَاءِ الدُّنْيَا وَوُجُوبِ الِاسْتِعْدَادِ لِلْآخِرَةِ.وَقَالَ سُبْحَانَهُ:
﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ﴾
[التوبة: ٨٤]وَفِي الْآيَةِ دَلِيلٌ عَلَى مَشْرُوعِيَّةِ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْقِيَامِ عَلَى قُبُورِهِمْ بِالدُّعَاءِ.
وَقَالَ تَعَالَى:﴿وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾
[الإسراء: ٢٤]أَيْ الدُّعَاءُ لِلْوَالِدَيْنِ بَعْدَ مَوْتِهِمَا مِنْ أَعْظَمِ الْبِرِّ وَالطَّاعَةِ.
╚═════ الأحاديث الصحيحة ════╝
قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ:«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ»
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ.أَيْ أَكْثِرُوا ذِكْرَ الْمَوْتِ لِأَنَّهُ يُلَيِّنُ الْقُلُوبَ وَيُذَهِّدُ فِي الدُّنْيَا.وَقَالَ ﷺ:«مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ»مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.وَقَالَ ﷺ:«كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ قَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ»رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.وَقَالَ ﷺ:«إِذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ»رَوَاهُ مُسْلِمٌ.وَقَالَ الْإِمَامُ الْقُشَيْرِيُّ: ذِكْرُ الْمَوْتِ يُصَفِّي الْقَلْبَ وَيُقَرِّبُ الْعَبْدَ إِلَى اللّٰهِ”.╚══ الدروس والعبر ═══╝
إِنَّ حُضُورَ الْجَنَائِزِ وَالدَّفْنِ يُذَكِّرُ الْعَبْدَ بِالْآخِرَةِ وَيُرَقِّقُ الْقَلْبَ، وَالدُّعَاءُ لِلْمَيِّتِ مِنْ أَعْظَمِ الْوَفَاءِ وَالرَّحْمَةِ، وَذِكْرُ الْمَوْتِ يُصْلِحُ الْأَعْمَالَ وَيُبْعِدُ عَنِ الْغَفْلَةِ، وَالْمُؤْمِنُ الْعَاقِلُ يَسْتَعِدُّ لِلِقَاءِ رَبِّهِ بِالتَّوْبَةِ وَالطَّاعَةِ.╚═══ الخاتمة ══╝ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَّعِظِينَ بِالْمَوْتِ، وَارْزُقْنَا حُسْنَ الْخَاتِمَةِ، وَاغْفِرْ لِمَوْتَانَا وَمَوْتَى الْمُسْلِمِينَ، وَثَبِّتْهُمْ عِنْدَ السُّؤَالِ، وَاجْعَلْ قُبُورَهُمْ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. آمِينَ.╚══════ المقدمة ════╝
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَ الْمَوْتَ بَابًا لِلِانْتِقَالِ مِنْ دَارِ الْفَنَاءِ إِلَى دَارِ الْبَقَاءِ،
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুকে নশ্বর জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে গমনের দ্বার বানিয়েছেন।
وَجَعَلَ تَشْيِيعَ الْجَنَائِزِ وَحُضُورَ الدَّفْنِ مِنْ شَعَائِرِ الْإِيمَانِ وَالرَّحْمَةِ،
এবং জানাজার সাথে যাওয়া ও দাফনে উপস্থিত থাকাকে ঈমান ও রহমতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
وَأَمَرَنَا بِالِاعْتِبَارِ بِالْمَوْتِ وَالدُّعَاءِ لِلْمُسْلِمِينَ،
আর আমাদেরকে মৃত্যু থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও মুসলমানদের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন।
وَنُصَلِّي وَنُسَلِّمُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الَّذِي ذَكَّرَ الْأُمَّةَ بِالْآخِرَةِ وَالْمَوْتِ وَالْقُبُورِ.
এবং আমরা দুরুদ ও সালাম প্রেরণ করছি আমাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানিত নবী রাসুল মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, যিনি উম্মতকে আখিরাত, মৃত্যু ও কবরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
╚════ الواقعة التاريخية ═════╝
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا مَرَّ بِالْقُبُورِ سَلَّمَ عَلَى أَهْلِهَا وَدَعَا لَهُمْ بِالرَّحْمَةِ،
নবী ﷺ যখন কবরগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন কবরবাসীদের সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য রহমতের দোয়া করতেন।
وَكَانَ الصَّحَابَةُ رِضْوَانُ اللّٰهِ عَلَيْهِمْ يُسَارِعُونَ إِلَى حُضُورِ الْجَنَائِزِ وَالدَّفْنِ ابْتِغَاءَ الْأَجْرِ وَالِاعْتِبَارِ.
আর সাহাবায়ে কিরাম রা. সওয়াব লাভ ও শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে দ্রুত জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করতেন।
وَقَدْ ذَكَرَ أَهْلُ التَّصَوُّفِ أَنَّ الْمَيِّتَ يَحْتَاجُ بَعْدَ الْمَوْتِ إِلَى الدُّعَاءِ وَالِاسْتِغْفَارِ وَالصَّدَقَةِ،
আহলে তাসাউফ উল্লেখ করেছেন যে, মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর পর দোয়া, ইস্তিগফার ও সদকার মুখাপেক্ষী হয়ে যায়।
وَكَانَ الْإِمَامُ الْغَزَالِيُّ رَحِمَهُ اللّٰهُ يَقُولُ:
ইমাম গাজ্জালী রহ. বলতেন—
“مَنْ أَكْثَرَ ذِكْرَ الْمَوْتِ رَقَّ قَلْبُهُ وَقَلَّ تَعَلُّقُهُ بِالدُّنْيَا”.
“যে ব্যক্তি বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করে, তার অন্তর কোমল হয় এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমে যায়।”
وَكَانَ الْأَوْلِيَاءُ يَحْضُرُونَ الْجَنَائِزَ تَوَاضُعًا وَتَذَكُّرًا لِلْآخِرَةِ.
আর অলীগণ বিনয় ও আখিরাতের স্মরণে জানাজায় উপস্থিত হতেন।
╚══════ الآيات القرآنية ═══╝
قَالَ اللّٰهُ تَعَالَى:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ﴾
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”
[آل عمران: ١٨٥]
[সূরা আলে ইমরান: ১৮৫]
قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ:
ইবনে কাসীর রহ. বলেন—
أَيْ لَا بُدَّ لِكُلِّ مَخْلُوقٍ مِنْ مَوْتٍ وَانْتِقَالٍ إِلَى الْآخِرَةِ.
অর্থাৎ প্রত্যেক সৃষ্টিজীবের জন্য মৃত্যু এবং আখিরাতে গমন অবশ্যম্ভাবী।
وَقَالَ تَعَالَى:
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
﴿ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ ۝ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾
“অতঃপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে, তারপর কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে।”
[المؤمنون: ١٥-١٦]
[সূরা মুমিনুন: ১৫-১৬]
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ:
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন—
فِي الْآيَةِ تَذْكِيرٌ بِفَنَاءِ الدُّنْيَا وَوُجُوبِ الِاسْتِعْدَادِ لِلْآخِرَةِ.
এই আয়াতে দুনিয়ার ধ্বংসশীলতা ও আখিরাতের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার স্মরণ করানো হয়েছে।
وَقَالَ سُبْحَانَهُ:
মহান আল্লাহ বলেন—
﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ﴾
“তাদের কেউ মারা গেলে তার জানাজা পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না।”
[التوبة: ٨٤]
[সূরা তাওবা: ৮৪]
وَفِي الْآيَةِ دَلِيلٌ عَلَى مَشْرُوعِيَّةِ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْقِيَامِ عَلَى قُبُورِهِمْ بِالدُّعَاءِ.
এই আয়াতে মুমিনদের জানাজা পড়া এবং তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করার বৈধতার প্রমাণ রয়েছে।
وَقَالَ تَعَالَى:
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
﴿وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾
“আর বলুন, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।”
[الإسراء: ٢٤]
[সূরা ইসরা: ২৪]
أَيْ الدُّعَاءُ لِلْوَالِدَيْنِ بَعْدَ مَوْتِهِمَا مِنْ أَعْظَمِ الْبِرِّ وَالطَّاعَةِ.
অর্থাৎ মৃত্যুর পর পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা সর্বশ্রেষ্ঠ সদ্ব্যবহার ও আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত।
╚═════ الأحاديث الصحيحة ════╝
قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ»
“তোমরা সুখ-স্বাদ ধ্বংসকারী (মৃত্যু)-কে অধিক স্মরণ করো।”
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ.
এটি ইমাম তিরমিযী রহ. বর্ণনা করেছেন।
أَيْ أَكْثِرُوا ذِكْرَ الْمَوْتِ لِأَنَّهُ يُلَيِّنُ الْقُلُوبَ وَيُذَهِّدُ فِي الدُّنْيَا.
অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, কারণ তা অন্তর কোমল করে এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি সৃষ্টি করে।
وَقَالَ ﷺ:
তিনি ﷺ আরও বলেন—
«مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ»
“যে ব্যক্তি জানাজায় উপস্থিত থাকে যতক্ষণ না নামাজ পড়া হয়, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব। আর যে দাফন পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, তার জন্য দুই কিরাত সওয়াব।”
مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন।
وَقَالَ ﷺ:
রাসূল ﷺ আরও বলেছেন—
«كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ قَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ»
“নবী ﷺ যখন মৃতকে দাফন শেষ করতেন, তখন বলতেন— তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করো।”
رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ.
এটি আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
وَقَالَ ﷺ:
তিনি ﷺ আরও বলেছেন—
«إِذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ»
“মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ব্যতীত।”
رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
এটি মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
وَقَالَ الْإِمَامُ الْقُشَيْرِيُّ:
ইমাম কুশাইরী রহ. বলেন—
“ذِكْرُ الْمَوْتِ يُصَفِّي الْقَلْبَ وَيُقَرِّبُ الْعَبْدَ إِلَى اللّٰهِ”.
“মৃত্যুর স্মরণ অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে।”
╚═══════════════ الدروس والعبر ═══════════════╝
إِنَّ حُضُورَ الْجَنَائِزِ وَالدَّفْنِ يُذَكِّرُ الْعَبْدَ بِالْآخِرَةِ وَيُرَقِّقُ الْقَلْبَ،
নিশ্চয়ই জানাজা ও দাফনে উপস্থিত হওয়া বান্দাকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অন্তর কোমল করে।
وَالدُّعَاءُ لِلْمَيِّتِ مِنْ أَعْظَمِ الْوَفَاءِ وَالرَّحْمَةِ،
আর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বড় বিশ্বস্ততা ও দয়ার প্রকাশ।
وَذِكْرُ الْمَوْتِ يُصْلِحُ الْأَعْمَالَ وَيُبْعِدُ عَنِ الْغَفْلَةِ،
মৃত্যুর স্মরণ আমলকে সংশোধন করে এবং গাফেলত থেকে দূরে রাখে।
وَالْمُؤْمِنُ الْعَاقِلُ يَسْتَعِدُّ لِلِقَاءِ رَبِّهِ بِالتَّوْبَةِ وَالطَّاعَةِ.
আর জ্ঞানী মুমিন তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে তার রবের সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
╚══════ الخاتمة ═════╝
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الْمُتَّعِظِينَ بِالْمَوْتِ،
হে আল্লাহ! আমাদেরকে মৃত্যুর দ্বারা শিক্ষা গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
وَارْزُقْنَا حُسْنَ الْخَاتِمَةِ،
এবং আমাদেরকে উত্তম পরিণতি দান করুন।
وَاغْفِرْ لِمَوْتَانَا وَمَوْتَى الْمُسْلِمِينَ،
আর আমাদের মৃতগণ ও সকল মুসলমান মৃতদের ক্ষমা করুন।
وَثَبِّتْهُمْ عِنْدَ السُّؤَالِ،
এবং প্রশ্নের সময় তাদেরকে দৃঢ় রাখুন।
وَاجْعَلْ قُبُورَهُمْ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ،
আর তাদের কবরসমূহকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দিন।
إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. آمِينَ.
নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমীন।╔═════۝۝۝۝۝۝══════
”🌹═۝۝۝۝۝۝══
🌹═════🔷الْخُطْبَةُ الجُمُعَةِ الثَّانِيَةُ
🟢সানী খুতবা ② খুতবা (জুজে সানী👉🌹②
الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ.أَمَّا بَعْدُ:فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ.اللَّهُمَّ إِنِّي أُجَدِّدُ الإِيمَانَ وَالإِسْلَامَ، وَأَتُوبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالآثَامِ.أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ جَلَّ جَلَالُهُ تَوْبَةً نَصُوحًا، مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالكَبَائِرِ وَالصَّغَائِرِ، وَمِنَ الشِّرْكِ ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ، مَعْلُومِهِ وَمَجْهُولِهِ.رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا وَرَسُولًا.لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَىٰ:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ المُهْدَاةِ، الَّذِي بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الأَمَانَةَ وَنَصَحَ الأُمَّةَ.اللَّهُمَّ ارْضَ عَنِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ:سَيِّدِنَا أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَسَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، وَسَيِّدِنَا عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَسَيِّدِنَا عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا.وَعَنْ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا،
وَعَنِ الحَسَنِ وَالحُسَيْنِ،رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّاهِرِينَ، وَعَنْ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَالأَوْلِيَاءِ الصَّالِحِينَ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ، وَالمُسْلِمِينَ وَالمُسْلِمَاتِ، الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ.اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الكَذِبِ.اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَ وَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾فَاذْكُرُوا اللَّهَ العَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَىٰ نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
🌹═════۝۝۝۝۝۝══════🌹

আমাদের সম্পর্কে বিভাগের আরো খবর

আরও খবর