
৯০ নং জুম্মার খুতবা 🔷নবুয়তের ষষ্ঠ বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
╔══════════════════════════════╗السَّنَةُ السَّادِسَةُ مِنَ النُّبُوَّةِ وَأَحْدَاثُهَا الْعَظِيمَةُ
المقدمة══════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ══════╗
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَيَّدَ دِينَهُ بِنُورِ الْإِيمَانِ، وَأَظْهَرَهُ عَلَى سَائِرِ الْأَدْيَانِ، وَأَرْسَلَ رُسُلَهُ تِتْرَى وَأَنْبِيَاءَهُ مُتَتَابِعِينَ لِيَهْدُوا الْبَشَرِيَّةَ إِلَى صِرَاطِهِ الْمُسْتَقِيمِ، فَجَعَلَ مِنْهُمْ مَنَارَ الْهُدَى وَمَصَابِيحَ الدُّجَى، حَتَّى خُتِمَتِ الرِّسَالَاتُ بِسَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، نُورِ الْعَالَمِينَ وَرَحْمَةِ اللَّهِ لِلْعَالَمِينَ.، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ الَّذِي صَبَرَ عَلَى الْبَلَاءِ، وَثَبَتَ عَلَى الْحَقِّ، حَتَّى أَظْهَرَ اللَّهُ بِهِ نُورَ الْإِسْلَامِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
الْبَيَانُ
كَانَتِ السَّنَةُ السَّادِسَةُ مِنَ النُّبُوَّةِ مِنَ السِّنِينَ الْمُهِمَّةِ فِي تَارِيخِ الدَّعْوَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ، فِيهَا ظَهَرَتْ قُوَّةُ الْإِيمَانِ، وَبَدَأَ الْإِسْلَامُ يَنْتَشِرُ فِي مَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ عَلَى الرَّغْمِ مِنْ شِدَّةِ أَذَى قُرَيْشٍ وَتَعْذِيبِهِمْ لِلْمُؤْمِنِينَ.
وَمِنْ أَعْظَمِ أَحْدَاثِ هَذِهِ السَّنَةِ إِسْلَامُ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رضي الله عنه، عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، وَكَانَ مِنْ أَشْجَعِ رِجَالِ قُرَيْشٍ وَأَقْوَاهُمْ.
وَسَبَبُ إِسْلَامِهِ أَنَّ أَبَا جَهْلٍ آذَى النَّبِيَّ ﷺ عِنْدَ الصَّفَا، فَغَضِبَ حَمْزَةُ رضي الله عنه لَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ، فَذَهَبَ إِلَى أَبِي جَهْلٍ وَضَرَبَهُ بِقَوْسِهِ، وَقَالَ:
«أَتَشْتُمُهُ وَأَنَا عَلَى دِينِهِ؟»
ثُمَّ أَعْلَنَ إِسْلَامَهُ بَيْنَ النَّاسِ.
(ذكره ابن هشام وابن كثير)
فَكَانَ إِسْلَامُ حَمْزَةَ عِزًّا لِلْمُسْلِمِينَ، وَقَدْ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه:
«مَا زِلْنَا أَعِزَّةً مُنْذُ أَسْلَمَ حَمْزَةُ»
(رواه الحاكم)
ثُمَّ أَكْرَمَ اللَّهُ الْإِسْلَامَ بَعْدَ ذَلِكَ بِإِسْلَامِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، وَكَانَ مِنْ أَعْظَمِ فُرْسَانِ قُرَيْشٍ وَأَشَدِّهِمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ.
وَقَدْ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ:
«اللَّهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِأَحَبِّ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ: بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَوْ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ»
(رواه الترمذي)
فَاسْتَجَابَ اللَّهُ دُعَاءَ نَبِيِّهِ ﷺ، فَأَسْلَمَ عُمَرُ رضي الله عنه بَعْدَ أَنْ سَمِعَ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ طه، فَرَقَّ قَلْبُهُ وَخَشَعَتْ نَفْسُهُ.
فَلَمَّا أَسْلَمَ عُمَرُ رضي الله عنه، خَرَجَ الْمُسْلِمُونَ إِلَى الْكَعْبَةِ مُعْلِنِينَ دِينَهُمْ، وَصَلَّوْا عِنْدَ الْبَيْتِ الْحَرَامِ، وَقَدْ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه:
«كَانَ إِسْلَامُ عُمَرَ فَتْحًا، وَهِجْرَتُهُ نَصْرًا، وَإِمَارَتُهُ رَحْمَةً»
(رواه الطبراني)
وَقَدْ أَشَارَ الْمُفَسِّرُونَ إِلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَحْدَاثَ كَانَتْ مِنْ تَأْيِيدِ اللَّهِ لِنَبِيِّهِ ﷺ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ:
﴿إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا﴾
(سورة غافر: ٥١)
فَكَانَ إِسْلَامُ حَمْزَةَ وَعُمَرَ رضي الله عنهما نُورًا وَقُوَّةً لِلْمُسْلِمِينَ، وَبِهِمَا انْكَسَرَ شَيْءٌ مِنْ شَوْكَةِ الْمُشْرِكِينَ.
وَقَالَ أَهْلُ التَّصَوُّفِ وَالْمَعْرِفَةِ: إِنَّ فِي إِسْلَامِ عُمَرَ وَحَمْزَةَ إِشَارَةً إِلَى أَنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ نَصْرَ دِينِهِ، قَلَبَ الْقُلُوبَ بِنُورِ الْهِدَايَةِ، فَيَصِيرُ أَعْدَاءُ الْأَمْسِ أَنْصَارَ الْيَوْمِ.
الخاتمة
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، إِنَّ السَّنَةَ السَّادِسَةَ مِنَ النُّبُوَّةِ تُعَلِّمُنَا أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ دِينَهُ بِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ. فَعَلَيْنَا أَنْ نَثْبُتَ عَلَى الْحَقِّ، وَنَدْعُوَ إِلَى اللَّهِ بِالْحِكْمَةِ وَالصَّبْرِ، حَتَّى نَلْقَى اللَّهَ وَهُوَ رَاضٍ عَنَّا.السَّنَةُ السَّادِسَةُ مِنَ النُّبُوَّةِ وَأَحْدَاثُهَا الْعَظِيمَةُ
নবুয়তের ষষ্ঠ বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
المقدمة
ভূমিকা
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَيَّدَ دِينَهُ بِنُورِ الْإِيمَانِ،
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দ্বীনকে ঈমানের নূরের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।
وَأَظْهَرَهُ عَلَى سَائِرِ الْأَدْيَانِ،
এবং তাঁর দ্বীনকে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করেছেন।
وَأَرْسَلَ رُسُلَهُ تِتْرَى وَأَنْبِيَاءَهُ مُتَتَابِعِينَ
এবং তিনি একের পর এক তাঁর রাসূল ও নবীগণকে প্রেরণ করেছেন ধারাবাহিকভাবে।
لِيَهْدُوا الْبَشَرِيَّةَ إِلَى صِرَاطِهِ الْمُسْتَقِيمِ،
যাতে তারা মানবজাতিকে তাঁর সরল পথের দিকে হিদায়াত দিতে পারেন।
فَجَعَلَ مِنْهُمْ مَنَارَ الْهُدَى وَمَصَابِيحَ الدُّجَى،
অতঃপর তিনি তাঁদেরকে হিদায়াতের আলোকস্তম্ভ ও অন্ধকারের প্রদীপ বানিয়েছেন।
حَتَّى خُتِمَتِ الرِّسَالَاتُ بِسَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ،
এমনকি শেষ পর্যন্ত সকল রিসালাত আমাদের প্রিয় সর্বোচ্চ মর্যাদাবানন নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
نُورِ الْعَالَمِينَ وَرَحْمَةِ اللَّهِ لِلْعَالَمِينَ.
যিনি সমগ্র জগত সমূহের আলো এবং সমগ্র জগত সমূহের জন্য আল্লাহর রহমত বানিয়েছেন ।
وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ
দরূদ ও সালাম আমাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর।
الَّذِي صَبَرَ عَلَى الْبَلَاءِ،
যিনি বিপদের উপর ধৈর্য ধারণ করেছেন।
وَثَبَتَ عَلَى الْحَقِّ،
এবং সত্যের উপর অবিচল থেকেছেন।
حَتَّى أَظْهَرَ اللَّهُ بِهِ نُورَ الْإِسْلَامِ،
এমনকি আল্লাহ তাঁর নুরের মাধ্যমে ইসলাম কে বিজয় দান করেছেন।
وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর উপরও।
الْبَيَانُ
মূল আলোচনা
كَانَتِ السَّنَةُ السَّادِسَةُ مِنَ النُّبُوَّةِ
নবুয়তের ষষ্ঠ বছর ছিল
مِنَ السِّنِينَ الْمُهِمَّةِ فِي تَارِيخِ الدَّعْوَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ،
ইসলামী দাওয়াতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলোর একটি।
فِيهَا ظَهَرَتْ قُوَّةُ الْإِيمَانِ،
এ বছরে ঈমানের শক্তি প্রকাশ পেয়েছিল।
وَبَدَأَ الْإِسْلَامُ يَنْتَشِرُ فِي مَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ
এবং ইসলাম মক্কা মুকাররমায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল।
عَلَى الرَّغْمِ مِنْ شِدَّةِ أَذَى قُرَيْشٍ
যদিও কুরাইশদের নির্যাতন ছিল অত্যন্ত কঠিন।
وَتَعْذِيبِهِمْ لِلْمُؤْمِنِينَ.
এবং তারা মুমিনদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল।
وَمِنْ أَعْظَمِ أَحْدَاثِ هَذِهِ السَّنَةِ
এ বছরের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর অন্যতম ছিল
إِسْلَامُ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رضي الله عنه،
হযরত হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব رضي الله عنه-এর ইসলাম গ্রহণ।
عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ،
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা।
وَكَانَ مِنْ أَشْجَعِ رِجَالِ قُرَيْشٍ وَأَقْوَاهُمْ.
এবং তিনি কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ও শক্তিশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।
وَسَبَبُ إِسْلَامِهِ
তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল—
أَنَّ أَبَا جَهْلٍ آذَى النَّبِيَّ ﷺ عِنْدَ الصَّفَا،
আবু জাহল সাফা পাহাড়ের নিকটে নবী ﷺ-কে কষ্ট দিয়েছিল।
فَغَضِبَ حَمْزَةُ رضي الله عنه لَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ،
যখন হযরত হামযা رضي الله عنه এ কথা শুনলেন, তখন তিনি ক্রোধান্বিত হলেন।
فَذَهَبَ إِلَى أَبِي جَهْلٍ
অতঃপর তিনি আবু জাহলের কাছে গেলেন।
وَضَرَبَهُ بِقَوْسِهِ،
এবং তাঁর ধনুক দিয়ে তাকে আঘাত করলেন।
وَقَالَ:
এবং বললেন—
«أَتَشْتُمُهُ وَأَنَا عَلَى دِينِهِ؟»
“তুমি কি তাঁকে গালি দাও, অথচ আমিও তাঁর দ্বীনের উপর আছি?”
ثُمَّ أَعْلَنَ إِسْلَامَهُ بَيْنَ النَّاسِ.
অতঃপর তিনি মানুষের সামনে নিজের ইসলাম ঘোষণা করলেন।
(ذكره ابن هشام وابن كثير)
(ইবনে হিশাম ও ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন)
فَكَانَ إِسْلَامُ حَمْزَةَ عِزًّا لِلْمُسْلِمِينَ،
অতএব হযরত হামযা رضي الله عنه-এর ইসলাম মুসলমানদের জন্য সম্মানের কারণ হয়েছিল।
وَقَدْ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه:
এবং হযরত ইবনে মাসউদ رضي الله عنه বলেছেন—
«مَا زِلْنَا أَعِزَّةً مُنْذُ أَسْلَمَ حَمْزَةُ»
“হামযা ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকেই আমরা সম্মানিত হতে শুরু করি।”
(رواه الحاكم)
(হাকিম বর্ণনা করেছেন)
ثُمَّ أَكْرَمَ اللَّهُ الْإِسْلَامَ بَعْدَ ذَلِكَ
অতঃপর আল্লাহ ইসলামকে আরও সম্মানিত করলেন
بِإِسْلَامِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه،
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব رضي الله عنه-এর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে।
وَكَانَ مِنْ أَعْظَمِ فُرْسَانِ قُرَيْشٍ
তিনি ছিলেন কুরাইশদের অন্যতম বীর যোদ্ধা।
وَأَشَدِّهِمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ.
এবং মুসলমানদের উপর সবচেয়ে কঠোর ব্যক্তিদের একজন।
وَقَدْ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন—
«اللَّهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِأَحَبِّ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ:
“হে আল্লাহ! আপনার নিকট প্রিয় এই দুই ব্যক্তির একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন—
بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَوْ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ»
উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আবু জাহল ইবনে হিশামের মাধ্যমে।”
(رواه الترمذي)
(তিরমিযী শরীফ)
فَاسْتَجَابَ اللَّهُ دُعَاءَ نَبِيِّهِ ﷺ،
অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী ﷺ-এর দোয়া কবুল করলেন।
فَأَسْلَمَ عُمَرُ رضي الله عنه
এবং হযরত উমর رضي الله عنه ইসলাম গ্রহণ করলেন।
بَعْدَ أَنْ سَمِعَ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ طه،
সূরা ত্ব-হা-এর কিছু আয়াত শ্রবণ করার পর।
فَرَقَّ قَلْبُهُ وَخَشَعَتْ نَفْسُهُ.
ফলে তাঁর অন্তর কোমল হয়ে গেল এবং মন বিনম্র হয়ে পড়ল।
فَلَمَّا أَسْلَمَ عُمَرُ رضي الله عنه،
যখন হযরত উমর رضي الله عنه ইসলাম গ্রহণ করলেন,
خَرَجَ الْمُسْلِمُونَ إِلَى الْكَعْبَةِ
তখন মুসলমানরা কাবা শরীফের দিকে বের হলেন।
مُعْلِنِينَ دِينَهُمْ،
নিজেদের দ্বীন প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে করতে।
وَصَلَّوْا عِنْدَ الْبَيْتِ الْحَرَامِ،
এবং বায়তুল হারামের নিকটে সালাত আদায় করলেন।
وَقَدْ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه:
এবং হযরত ইবনে মাসউদ رضي الله عنه বলেছেন—
«كَانَ إِسْلَامُ عُمَرَ فَتْحًا،
“উমরের ইসলাম গ্রহণ ছিল বিজয়,
وَهِجْرَتُهُ نَصْرًا،
তাঁর হিজরত ছিল সাহায্য,
وَإِمَارَتُهُ رَحْمَةً»
এবং তাঁর শাসন ছিল রহমত।”
(رواه الطبراني)
(তাবারানী বর্ণনা করেছেন)
وَقَدْ أَشَارَ الْمُفَسِّرُونَ
মুফাসসিরগণ ইঙ্গিত করেছেন—
إِلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَحْدَاثَ
যে এসব ঘটনা
كَانَتْ مِنْ تَأْيِيدِ اللَّهِ لِنَبِيِّهِ ﷺ،
ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী ﷺ-কে সাহায্য করার নিদর্শন।
فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ:
কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
﴿إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا﴾
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণ এবং মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনেই সাহায্য করি।”
(سورة غافر: ٥١)
(সূরা গাফির: ৫১)
فَكَانَ إِسْلَامُ حَمْزَةَ وَعُمَرَ رضي الله عنهما
অতএব হযরত হামযা ও হযরত উমর رضي الله عنهما-এর ইসলাম গ্রহণ
نُورًا وَقُوَّةً لِلْمُسْلِمِينَ،
মুসলমানদের জন্য নূর ও শক্তির কারণ হয়েছিল।
وَبِهِمَا انْكَسَرَ شَيْءٌ مِنْ شَوْكَةِ الْمُشْرِكِينَ.
এবং তাঁদের মাধ্যমে মুশরিকদের শক্তির কিছুটা ভেঙে গিয়েছিল।
وَقَالَ أَهْلُ التَّصَوُّفِ وَالْمَعْرِفَةِ:
তাসাউফ ও মারিফাতের জ্ঞানীগণ বলেছেন—
إِنَّ فِي إِسْلَامِ عُمَرَ وَحَمْزَةَ
নিশ্চয়ই উমর ও হামযার ইসলাম গ্রহণের মধ্যে
إِشَارَةً إِلَى أَنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ نَصْرَ دِينِهِ،
এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ যখন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করতে চান,
قَلَبَ الْقُلُوبَ بِنُورِ الْهِدَايَةِ،
তখন তিনি অন্তরসমূহকে হিদায়াতের নূর দ্বারা পরিবর্তন করে দেন।
فَيَصِيرُ أَعْدَاءُ الْأَمْسِ أَنْصَارَ الْيَوْمِ.
ফলে গতকালের শত্রুরাই আজকের সাহায্যকারী হয়ে যায়।
الخاتمة
উপসংহার
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ،
হে আল্লাহর বান্দাগণ!
إِنَّ السَّنَةَ السَّادِسَةَ مِنَ النُّبُوَّةِ تُعَلِّمُنَا
নিশ্চয়ই নবুয়তের ষষ্ঠ বছর আমাদের শিক্ষা দেয়—
أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ،
নিশ্চয়ই সাহায্য ধৈর্যের সাথেই আসে।
وَأَنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ دِينَهُ بِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ.
এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী বানান।
فَعَلَيْنَا أَنْ نَثْبُتَ عَلَى الْحَقِّ،
অতএব আমাদের উচিত সত্যের উপর অবিচল থাকা।
وَنَدْعُوَ إِلَى اللَّهِ بِالْحِكْمَةِ وَالصَّبْرِ،
এবং প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা।
حَتَّى نَلْقَى اللَّهَ وَهُوَ رَاضٍ عَنَّا.
যাতে আমরা আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করি যে, তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন।।🔷╔🔷═══════════════🔷═══╝🌹 الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ الجُزْءُ الأَوَّلُ ════🔷╔═════════════🔷
🟢 المقدمة:الحمدُ للهِ حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، الَّذي اصطفى أصحابَ نبيِّه ﷺ، وجعلهم خيرَ القرونِ، وحملةَ هذا الدِّينِ، والصلاةُ والسلامُ على سيدِنا محمدٍ ﷺ، الَّذي ربَّى أصحابَه على الإيمانِ والإحسانِ، وعلَّمهم مكارمَ الأخلاقِ، وجعلهم قدوةً للعالمين. الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺأَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾اللهمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ لِلْعَالَمِينَ، الَّذِي بَعَثْتَهُ هُدًى وَرَحْمَةً لِلنَّاسِ أَجْمَعِينَ. أَهْلُ الكِسَاءِ الطَّاهِرُونَ ان أَهْلَ البَيْتِ النَّبَوِيِّ ﷺ هُمُ:سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ ﷺ، وَعَلِيٌّ، وَفَاطِمَةُ، وَالحَسَنُ، وَالحُسَيْنُ رضي اللهُ عنهم،وَهُمْ أَهْلُ الكِسَاءِ الطَّاهِرُونَ الَّذِينَ أَذْهَبَ اللَّهُ عَنْهُمُ الرِّجْسَ وَطَهَّرَهُمْ تَطْهِيرًا.وَمَحَبَّتُهُمْ مِنْ مَحَبَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، وَالاِقْتِدَاءُ بِهِمْ مِنْ دَلَائِلِ الإِيمَانِ وَالتَّقْوَى، فَهُمْ أَهْلُ الفَضْلِ وَالشَّرَفِ، وَمَنَارُ الهُدَى فِي أُمَّةِ الإِسْلَامِ.نَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَرْزُقَنَا مَحَبَّتَهُمْ، وَأَنْ يَحْشُرَنَا مَعَهُمْ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ. فَضَائِلُ الصَّحَابَةِ الكِرَامِ -قال اللهُ تعالى:﴿وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ﴾فَضَائِلُ بَعْضِ الصَّحَابَةِ🔹 أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي اللهُ عنه هُوَ أَفْضَلُ الصَّحَابَةِ، وَأَوَّلُ مَنْ آمَنَ مِنَ الرِّجَالِ، وَصَدَّقَ النَّبِيَّ ﷺ فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَرَافَقَهُ فِي الهِجْرَةِ، وَبَذَلَ مَالَهُ وَنَفْسَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.🔹 وعمر بْنُ الخَطَّابِ رضي اللهُ عنه هُوَ الفَارُوقُ، الَّذِي فَرَّقَ اللَّهُ بِهِ بَيْنَ الحَقِّ وَالبَاطِلِ، وَأَعَزَّ اللَّهُ بِهِ الإِسْلَامَ، وَكَانَ قَوِيًّا فِي الحَقِّ، عَادِلًا فِي الحُكْمِ.🔹و عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي اللهُ عنه هُوَ ذُو النُّورَيْنِ، جَمَعَ القُرْآنَ الكَرِيمَ، وَكَانَ كَرِيمًا شَدِيدَ الحَيَاءِ، أَنْفَقَ مَالَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.🔹و عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي اللهُ عنه هُوَ أَسَدُ اللَّهِ، وَبَابُ العِلْمِ، كَانَ شُجَاعًا وَعَالِمًا، وَنَصِيرًا لِلإِسْلَامِ وَالمُسْلِمِينَ.مَكَانَتُهُمْ فِي الحَدِيثِ -قال رسولُ اللهِ ﷺ:«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ»وقال ﷺ:«لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ»اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَوَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ، وَجَعَلَنَا مِنَ الْمَقْبُولِينَ════🔷╔═════
আপনার মতামত লিখুন :