৮৯ নং জুম্মার খুতবা 🔷নবুয়তের পঞ্চম বছরে সাহাবায়ে কিরামের হাবশায় হিজরত ═══════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُول═══╗ هِجْرَةُ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ النُّبُوَّةِيِ


admin77 প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ন / ০
৮৯ নং জুম্মার খুতবা 🔷নবুয়তের পঞ্চম বছরে সাহাবায়ে কিরামের হাবশায় হিজরত ═══════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُول═══╗ هِجْرَةُ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ النُّبُوَّةِيِ
৪৮

৮৯ নং জুম্মার খুতবা 🔷নবুয়তের পঞ্চম বছরে সাহাবায়ে কিরামের হাবশায় হিজরত
═══════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُول═══╗
هِجْرَةُ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ النُّبُوَّةِيِ
══════════════════════════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ══════╗

المقدمة
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَرْسَلَ الْأَنْبِيَاءَ وَالْمُرْسَلِينَ بِالْإِسْلَامِ وَالْهُدَى، وَخَتَمَهُمْ بِسَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، نُورِ الْمُصْطَفَى وَرَحْمَةِ الْعَالَمِينَ، فَبِبِعْثَتِهِ كَمُلَ الدِّينُ وَتَمَّتِ النِّعْمَةُ عَلَى الْبَشَرِيَّةِ.ان الْهِجْرَةَ سَبِيلًا لِحِفْظِ الدِّينِ وَثَبَاتِ الْإِيمَانِ، وَأَيَّدَ أَوْلِيَاءَهُ بِالصَّبْرِ وَالْيَقِينِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ الَّذِي رَبَّى أَصْحَابَهُ عَلَى التَّضْحِيَةِ وَالثَّبَاتِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، حَتَّى تَرَكُوا الْأَوْطَانَ وَالْأَهْلَ وَالْأَمْوَالَ ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
الْبَيَانُ
لَمَّا اشْتَدَّ أَذَى قُرَيْشٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ الْبِعْثَةِ، وَزَادَ التَّعْذِيبُ وَالِاضْطِهَادُ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، أَذِنَ لَهُمُ النَّبِيُّ ﷺ بِالْهِجْرَةِ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ، حِفْظًا لِدِينِهِمْ وَإِيمَانِهِمْ.
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
«إِنَّ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ مَلِكًا لَا يُظْلَمُ عِنْدَهُ أَحَدٌ، فَالْحَقُوا بِبِلَادِهِ حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَكُمْ فَرَجًا وَمَخْرَجًا»
(رواه ابن هشام والبيهقي)
فَخَرَجَ مِنَ الصَّحَابَةِ فِي الْهِجْرَةِ الْأُولَى اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا وَأَرْبَعُ عَشَرَ نِسْوَةٍ، ثُمَّ تَلَتْهَا الْهِجْرَةُ الثَّانِيَةُ، حَتَّى بَلَغَ عَدَدُ الْمُهَاجِرِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ نَحْوًا مِنْ ثَلَاثَةٍ وَثَمَانِينَ رَجُلًا وَثَمَانِيَ عَشْرَةَ امْرَأَةً.
وَكَانَ مِنْ أَشْرَفِ الْمُهَاجِرِينَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه وَزَوْجَتُهُ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ فِيهِمَا:
«إِنَّهُمَا أَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعْدَ لُوطٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ»
(ذكره أهل السير)
وَلَمَّا وَصَلَ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى الْحَبَشَةِ، اسْتَقْبَلَهُمُ النَّجَاشِيُّ بِالْعَدْلِ وَالْإِكْرَامِ، وَكَانَ مَلِكًا نَصْرَانِيًّا عَادِلًا، لَا يَرْضَى بِالظُّلْمِ.
فَلَمَّا أَرْسَلَتْ قُرَيْشٌ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ لِيَرُدُّوا الْمُهَاجِرِينَ، قَامَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بَيْنَ يَدَيِ النَّجَاشِيِّ، وَخَطَبَ خُطْبَتَهُ الْمَشْهُورَةَ، فَقَالَ:
«أَيُّهَا الْمَلِكُ، كُنَّا قَوْمًا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ، نَعْبُدُ الْأَصْنَامَ، وَنَأْكُلُ الْمَيْتَةَ، وَنَقْطَعُ الْأَرْحَامَ، وَيَأْكُلُ الْقَوِيُّ مِنَّا الضَّعِيفَ، حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْنَا رَسُولًا مِنَّا…»
(رواه أحمد)
ثُمَّ تَلَا عَلَيْهِ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ مَرْيَمَ، فَبَكَى النَّجَاشِيُّ وَأَسَاقِفَتُهُ، وَقَالَ:
«إِنَّ هَذَا وَالَّذِي جَاءَ بِهِ عِيسَى لَيَخْرُجُ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ».
فَكَانَتْ هِجْرَةُ الْحَبَشَةِ دَلِيلًا عَلَى عِظَمِ التَّضْحِيَةِ فِي سَبِيلِ الدِّينِ، وَأَنَّ الْمُؤْمِنَ يُقَدِّمُ حِفْظَ عَقِيدَتِهِ عَلَى الْوَطَنِ وَالْمَالِ.
وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
﴿إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ﴾
(سورة البقرة: ٢١٨)
فَنَالَ الْمُهَاجِرُونَ شَرَفَ الْهِجْرَةِ وَالصَّبْرِ وَالثَّبَاتِ عَلَى الْحَقِّ.
الخاتمة
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، إِنَّ هِجْرَةَ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ تَعَلِّمُنَا التَّضْحِيَةَ مِنْ أَجْلِ الدِّينِ، وَالصَّبْرَ عَلَى الْبَلَاءِ، وَالثِّقَةَ بِنَصْرِ اللَّهِ تَعَالَى. فَمَنْ ثَبَتَ عَلَى الْحَقِّ نَصَرَهُ اللَّهُ، وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَيْهِ كَفَاهُ، وَالسَّعِيدُ مَنْ سَارَ عَلَى طَرِيقِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَصْحَابِهِ الْكِرَامِ.هِجْرَةُ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ النُّبُوَّةِ
══════════════════════════════🔷 الْخُطْبَةُ الْأُولَى ══════╗

المقدمة
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল নবী ও রাসূলগণকে ইসলাম ও হিদায়াতসহ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, এবং তাঁদের সর্বশেষে আমাদের প্রিয় সর্বোচ্চ মর্যাদা বান নূরে মোস্তফা মুহাম্মদ ﷺ-কে সমগ্র জগতসমূহের রহমতরূপে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তাঁর আগমনের মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং মানবজাতির উপর আল্লাহর নেয়ামত সম্পূর্ণ হয়েছে। ،.ان الْهِجْرَةَ سَبِيلًا لِحِفْظِ الدِّينِ وَثَبَاتِ الْإِيمَانِ،
নিচ্চই হিজরতকে দ্বীন রক্ষা ও ঈমানের দৃঢ়তার মাধ্যম বানিয়েছেন।
وَأَيَّدَ أَوْلِيَاءَهُ بِالصَّبْرِ وَالْيَقِينِ،
এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাস দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।
وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ
দরূদ ও সালাম আমাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর।
الَّذِي رَبَّى أَصْحَابَهُ عَلَى التَّضْحِيَةِ وَالثَّبَاتِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ،
যিনি তাঁর সাহাবীদের আল্লাহর পথে ত্যাগ ও দৃঢ়তার শিক্ষা দিয়েছেন।
حَتَّى تَرَكُوا الْأَوْطَانَ وَالْأَهْلَ وَالْأَمْوَالَ ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ،
এমনকি তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের মাতৃভূমি, পরিবার ও সম্পদ ত্যাগ করেছেন।
وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর উপরও।
الْبَيَانُ
মূল আলোচনা
لَمَّا اشْتَدَّ أَذَى قُرَيْشٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ فِي السَّنَةِ الْخَامِسَةِ مِنَ الْبِعْثَةِ،
যখন নবুয়ত প্রকাশের পঞ্চম বছরে মুমিনদের উপর কুরাইশদের নির্যাতন কঠিন হয়ে উঠল,
وَزَادَ التَّعْذِيبُ وَالِاضْطِهَادُ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ،
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীদের উপর নির্যাতন ও অত্যাচার বৃদ্ধি পেল,
أَذِنَ لَهُمُ النَّبِيُّ ﷺ بِالْهِجْرَةِ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ،
তখন নবী ﷺ তাদের হাবশার ভূমিতে হিজরত করার অনুমতি দিলেন।
حِفْظًا لِدِينِهِمْ وَإِيمَانِهِمْ.
তাদের দ্বীন ও ঈমান রক্ষার জন্য।
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের বললেন—
«إِنَّ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ مَلِكًا لَا يُظْلَمُ عِنْدَهُ أَحَدٌ،
“নিশ্চয়ই হাবশার ভূমিতে এমন এক বাদশাহ রয়েছেন, যার কাছে কারো উপর জুলুম করা হয় না।
فَالْحَقُوا بِبِلَادِهِ
অতএব তোমরা তাঁর দেশে চলে যাও।
حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَكُمْ فَرَجًا وَمَخْرَجًا»
যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের জন্য মুক্তির ও পথ বের করে দেন।”
(رواه ابن هشام والبيهقي)
(ইবনে হিশাম ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন)
فَخَرَجَ مِنَ الصَّحَابَةِ فِي الْهِجْرَةِ الْأُولَى
অতঃপর প্রথম হিজরতে সাহাবীদের মধ্য থেকে বের হলেন
اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ امْرَأَةً،
“বারোজন পুরুষ ও চৌদ্দজন মহিলা।”
ثُمَّ تَلَتْهَا الْهِجْرَةُ الثَّانِيَةُ،
অতঃপর এর পরে দ্বিতীয় হিজরত সংঘটিত হয়।
حَتَّى بَلَغَ عَدَدُ الْمُهَاجِرِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ
এমনকি পুরুষ ও মহিলা মিলে মুহাজিরদের সংখ্যা পৌঁছে যায়
نَحْوًا مِنْ ثَلَاثَةٍ وَثَمَانِينَ رَجُلًا وَثَمَانِيَ عَشْرَةَ امْرَأَةً.
প্রায় তিরাশিজন পুরুষ ও আঠারোজন মহিলায়।
وَكَانَ مِنْ أَشْرَفِ الْمُهَاجِرِينَ
মুহাজিরদের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত ছিলেন
عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه
হযরত উসমান ইবনে আফফান رضي الله عنه
وَزَوْجَتُهُ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ،
এবং তাঁর স্ত্রী, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা হযরত রুকাইয়া رضي الله عنها।
فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ فِيهِمَا:
তখন নবী ﷺ তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন—
«إِنَّهُمَا أَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعْدَ لُوطٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ»
“নিশ্চয়ই তাঁরা দু’জন আল্লাহর পথে হযরত লূত عليه السلام-এর পরে সর্বপ্রথম হিজরতকারী।”
(ذكره أهل السير)
(সীরাতবিদগণ উল্লেখ করেছেন)
وَلَمَّا وَصَلَ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى الْحَبَشَةِ،
যখন মুহাজিরগণ হাবশায় পৌঁছলেন,
اسْتَقْبَلَهُمُ النَّجَاشِيُّ بِالْعَدْلِ وَالْإِكْرَامِ،
তখন বাদশাহ নাজাশী তাদের ন্যায়বিচার ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করলেন।
وَكَانَ مَلِكًا نَصْرَانِيًّا عَادِلًا،
এবং তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ খ্রিস্টান বাদশাহ।
لَا يَرْضَى بِالظُّلْمِ.
যিনি জুলুম পছন্দ করতেন না।
فَلَمَّا أَرْسَلَتْ قُرَيْشٌ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ
অতঃপর যখন কুরাইশরা আমর ইবনুল আস ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি রবীআকে পাঠাল
لِيَرُدُّوا الْمُهَاجِرِينَ،
যাতে তারা মুহাজিরদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে,
قَامَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه
তখন হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব رضي الله عنه দাঁড়ালেন
بَيْنَ يَدَيِ النَّجَاشِيِّ،
বাদশাহ নাজাশীর সামনে।
وَخَطَبَ خُطْبَتَهُ الْمَشْهُورَةَ،
এবং তাঁর বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করলেন।
فَقَالَ:
অতঃপর তিনি বললেন—
«أَيُّهَا الْمَلِكُ،
“হে বাদশাহ!
كُنَّا قَوْمًا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ،
আমরা ছিলাম জাহিলিয়াতের সম্প্রদায়।
نَعْبُدُ الْأَصْنَامَ،
আমরা মূর্তিপূজা করতাম।
وَنَأْكُلُ الْمَيْتَةَ،
এবং মৃত প্রাণী ভক্ষণ করতাম।
وَنَقْطَعُ الْأَرْحَامَ،
এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতাম।
وَيَأْكُلُ الْقَوِيُّ مِنَّا الضَّعِيفَ،
আর আমাদের শক্তিশালী ব্যক্তি দুর্বলকে গ্রাস করত।
حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْنَا رَسُولًا مِنَّا…»
অবশেষে আল্লাহ আমাদের মধ্যেই একজন রাসূল প্রেরণ করলেন…”
(رواه أحمد)
(মুসনাদে আহমদ)
ثُمَّ تَلَا عَلَيْهِ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ مَرْيَمَ،
অতঃপর তিনি তাঁর সামনে সূরা মারইয়ামের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করলেন।
فَبَكَى النَّجَاشِيُّ وَأَسَاقِفَتُهُ،
তখন নাজাশী ও তাঁর পাদ্রিগণ কেঁদে ফেললেন।
وَقَالَ:
এবং তিনি বললেন—
«إِنَّ هَذَا وَالَّذِي جَاءَ بِهِ عِيسَى لَيَخْرُجُ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ».
“নিশ্চয়ই এই বাণী এবং হযরত ঈসা عليه السلام যা নিয়ে এসেছিলেন— উভয়ই একই নূরের উৎস থেকে এসেছে।”
فَكَانَتْ هِجْرَةُ الْحَبَشَةِ
অতএব হাবশার হিজরত ছিল
دَلِيلًا عَلَى عِظَمِ التَّضْحِيَةِ فِي سَبِيلِ الدِّينِ،
দ্বীনের পথে মহান ত্যাগের প্রমাণ।
وَأَنَّ الْمُؤْمِنَ يُقَدِّمُ حِفْظَ عَقِيدَتِهِ
এবং মুমিন ব্যক্তি নিজের আকীদা সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেয়
عَلَى الْوَطَنِ وَالْمَالِ.
নিজ মাতৃভূমি ও সম্পদের উপর।
وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
﴿إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ﴾
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে— তারাই আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী।”
(سورة البقرة: ٢١٨)
(সূরা বাকারা: ২১৮)
فَنَالَ الْمُهَاجِرُونَ شَرَفَ الْهِجْرَةِ وَالصَّبْرِ وَالثَّبَاتِ عَلَى الْحَقِّ.
অতঃপর মুহাজিরগণ হিজরতের মর্যাদা, ধৈর্য ও সত্যের উপর অবিচল থাকার সৌভাগ্য লাভ করেন।
الخاتمة
উপসংহার
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ،
হে আল্লাহর বান্দাগণ!
إِنَّ هِجْرَةَ الصَّحَابَةِ إِلَى الْحَبَشَةِ
নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কিরামের হাবশায় হিজরত
تَعَلِّمُنَا التَّضْحِيَةَ مِنْ أَجْلِ الدِّينِ،
আমাদের দ্বীনের জন্য ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষা দেয়।
وَالصَّبْرَ عَلَى الْبَلَاءِ،
এবং বিপদের উপর ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়।
وَالثِّقَةَ بِنَصْرِ اللَّهِ تَعَالَى.
এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্যের উপর ভরসা করতে শেখায়।
فَمَنْ ثَبَتَ عَلَى الْحَقِّ نَصَرَهُ اللَّهُ،
অতএব যে সত্যের উপর অবিচল থাকে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।
وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَيْهِ كَفَاهُ،
আর যে তাঁর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
وَالسَّعِيدُ مَنْ سَارَ عَلَى طَرِيقِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَصْحَابِهِ الْكِرَامِ.
আর সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের পথে চলতে পারে।۝🔷╔════🔷╔ জুমার নামাজের সানী খুতবা ③ جُزْءُ الثَّالِث (তৃতীয় অংশ) الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ لِلْجُمُعَةِ – ۝ الجُزْءُ الثَّالِثُ :═🔷
الحمدُ للهِ الذي أظهرَ نورَ الحبيبِ في أفقِ الوجود، وجعلَ عيدَ مولدِ حبيبِنا ومولانا سيِّدِنا محمدٍ ﷺ فرحًا وسرورًا للعالمين، وبمجيءِ النبيِّ ﷺ إلى الدنيا أشرقتِ الأرضُ نورًا، وسرًّا من أسرارِ لطفِه المخزون.
والصلاةُ والسلامُ على سيِّدِنا ومولانا محمّدٍ ﷺ، شمسِ الهدايةِ، وبدرِ الكمالِ، ومظهرِ أنوارِ المحبّةِ والجمالِ، وعلى آلهِ الطاهرين، وصحابتِه الغرِّ الميامين، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يومِ الدين.أمّا بعدُ؛يا أيُّها الحاضرون الكرام،
إنَّ هذا الذي نُحدِّثُكم به اليوم في هذه الخُطبةِ إنَّما هو أنوارُ المحبّةِ والسلامِ والقيامِ في رحابِ مولدِ خيرِ الأنامِ ﷺ، قد جمعناه تعظيمًا لمقامِ حضرةِ المصطفى ﷺ، وإظهارًا لما أودعَهُ اللهُ تعالى في قلوبِ المؤمنين من محبّتِه الشريفة، وقيامًا بواجبِ الأدبِ والتوقيرِ لجنابِه العظيمِ ﷺ، فاسمعوا بقلوبٍ خاشعةٍ، وذُكِّروا أنفسَكم بنورِ المحبّةِ والاتباعِ..”عِطْرًا، اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى سَيِّدِنَا حَبِيبِ الْمُصْطَفَى، سِرِّ الْعَالَمِينَ، نُورِ الْمُجَسَّمِ، رَحْمَةٍ مُّهْدَاةٍ، شَمْسِ الْهُدَى، مُحَمَّدٍ وَآلِهِ، صَلَاةً تَمْلَأُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَبِعَدَدِ كُلِّ ذَرَّةٍ مِائَةَ أَلْفِ أَلْفِ مَرَّةٍ، وَبَارِكْ وَسَلِّمْ دَائِمًا أَبَدًا اللَّهُمَّ لا تَجْعَلْ صَلَاتَنَا صيامنا وقيامناوَتِلَاوَتَنَا لِلْقُرْآنِا وركوعنا وسجودنا، وَذِكْرَنَا وَمَوْلِدَنَا وَالصَّلَوَاتِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَالسَّلَامَ قِيَامَ الشَّرِيفِ وَصَدَقَاتِنَا، وَجَمِيعَ أَعْمَالِنَا الصَّالِحَةِ.آخِرَ عَمَلِنَا، وَتَقَبَّلْهَا مِنَّا تَقَبُّلًا حَسَنًا، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ. تَقَبَّلْ مِنَّا . اجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الْمَقْبُولِينَ، وَلَا تَجْعَلْنَا مِنَ الْمَحْرُومِينَ.
،، اللهم أعده علينا أعواماً عديدة وأزمنة مديدة ونحن في صحةٍ وعافيةٍ وإيمان..اللهم اجعل هذا البلد آمناً مطمئناً، وسائر بلاد المسلمين، اللهم انشر السلام والرحمة، وارفع عنا الفتن ما ظهر منها وما بطن.
اللهم أصلح أحوال المسلمين، وبارك في أرزاقهم، وارفع درجاتهم، وحقق لهم التقدم في الدين والدنيا، واجعلهم من عبادك الصالحين.اللهم عليك بالظالمين فإنهم لا يعجزونك، اللهم خذهم أخذ عزيزٍ مقتدر، وأرنا فيهم عجائب قدرتك، اللهم من أراد بالإسلام والمسلمين سوءاً فاجعل كيده في نحره.اللهم انصر المظلومين في كل مكان، اللهم كن لهم معيناً ونصيراً، وفرج كربهم، واشف جرحاهم، وارحم شهداءهم، واجعلهم من أهل الجنة.
اللهم ارزقنا شفاعة نبيك محمد ﷺ يوم القيامة، واسقنا من يده الشريفة شربةً هنيئة لا نظمأ بعدها أبداً.
اللهم احشرنا تحت لوائه، واجعلنا من أهل سنته، وارزقنا محبته ومحبّة آله وأصحابه.اللهم ارزقنا صحبة الأولياء والصالحين، واجعلنا من أهل الذكر والمعرفة، ونوّر قلوبنا بنورك، واملأها بحبك يا رب العالمين.
اللهم اختم لنا بالحسنى، واجعل آخر كلامنا من الدنيا لا إله إلا الله محمد رسول الله.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ ﷺ،النُّورِ الْمُجَسَّمِ، وَالسِّرِّ الْمُعَظَّمِ،الَّذِي خَلَقْتَهُ أَوَّلَ الْخَلْقِ،وَجَعَلْتَهُ مَظْهَرَ نُورِكَ،وَرَحْمَةًلِلْعَالَمِينَ╔🔷════════════🔷

আমাদের সম্পর্কে বিভাগের আরো খবর

আরও খবর