═══ ❖ ═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَة(18) ❖═ জুম্মার নামাজের ১৮ নং খুতবার প্রথমখুতবা 🕌 خُطْبَةٌ فِي مَقَامِ الأَدَبِ وَسِرِّ القُرْبِ الإِلَهِيِّ═══ ❖ ═══ ❖ আদবের মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের রহস্য”


admin77 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৫:০২ পূর্বাহ্ন / ০
═══ ❖ ═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَة(18) ❖═   জুম্মার নামাজের ১৮ নং খুতবার  প্রথমখুতবা    🕌 خُطْبَةٌ فِي مَقَامِ الأَدَبِ وَسِرِّ القُرْبِ الإِلَهِيِّ═══ ❖ ═══ ❖                আদবের মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের রহস্য”
১৩৪
  1. ═══ ❖ ═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَة(18) ❖═ জুম্মার নামাজের ১৮ নং খুতবার প্রথমখুতবা 🕌 خُطْبَةٌ فِي مَقَامِ الأَدَبِ وَسِرِّ القُرْبِ الإِلَهِيِّ═══ ❖ ═══ ❖ আদবের মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের রহস্য” ৷ 🕌 خُطْبَةٌ فِي مَقَامِ الأَدَبِ وَسِرِّ القُرْبِ الإِلَهِيِّ
    الحمدُ للهِ الذي جعلَ الأدبَ مفتاحَ القربِ إليه، وسرَّ الوصولِ إلى حضرته، ونورَ القلوبِ الصادقةِ، وزينةَ الأرواحِ الطاهرةِ، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادةً تُطهِّرُ القلبَ من الكِبرِ والعُجبِ والغرورِ، وتفتحُ أبوابَ القبولِ والسرورِ، وأشهدُ أن سيدَنا محمدًا عبدُهُ ورسولُه، الذي بلغ أعلى مقاماتِ الأدبِ مع ربِّه، فكان خلقُه القرآنَ، وسيرتُه نورًا للسالكين. : مَقَامُ الأَدَبِ وَسِرُّ القُرْبِ الإِلَهِيِّ اللهم صلِّ وسلم وبارك على سيدنا محمدٍ، وعلى آله وصحبه الذين أدركوا سرَّ الأدب، فبلغوا مقامَ القربِ والرضوانِ.
    أما بعد:
    فيا عبادَ الله، أوصيكم ونفسي بتقوى الله، فإنها أساسُ كلِّ مقامٍ رفيعٍ، وسرُّ كلِّ فتحٍ ربانيٍّ، ومفتاحُ كلِّ قربٍ إلهيٍّ.
    اعلموا رحمكم الله أن مَقَامَ الأَدَبِ هو أعلى مقاماتِ السالكين، وأشرفُ منازلِ العارفين، به يُفتحُ بابُ القربِ، وبه تُرفعُ الحجبُ بين العبدِ وربِّه.
    قال أهلُ التصوف:
    “الأدبُ هو الوقوفُ مع الحقِّ بلا دعوى، وبلا التفاتٍ إلى النفس.”
    وقال الشيخ عبد القادر الجيلاني رحمه الله:
    “من لزم الأدبَ مع الله فتح الله له أبوابَ القرب، ومن ترك الأدبَ حُجب عن الحضرة.”
    وقال الإمام الجنيد البغدادي رحمه الله:
    “الطرقُ كلها مسدودةٌ إلا على من اقتفى أثرَ رسولِ الله ﷺ وتأدبَ بآدابه.”
    فالقربُ الإلهيُّ ليس بكثرةِ الأعمالِ فقط، بل بحسنِ الأدبِ مع الله في كلِّ حالٍ، في السرِّ والعلن، في الفقر والغنى، في السراء والضراء.
    يا سالكي طريقِ الله، إن سرَّ القربِ هو الفناءُ عن النفسِ والبقاءُ مع الله، فمن فني عن دعوى نفسه بقي بنور ربه، ومن بقي مع نفسه حُجب عن حضرته.
    وقال بعضُ العارفين:
    “من عرف نفسه بالأدب عرف ربَّه بالقرب.”
    وقالوا:
    “القربُ لا يُنال بكثرةِ العمل، ولكن بصدقِ الأدب.”
    وكان الصحابةُ رضي الله عنهم أعظمَ الناسِ أدبًا، فبلغوا القربَ لأنهم فَقَدوا أنفسهم في طاعةِ الله ورسوله ﷺ، فكانوا إذا ذُكر الله وجلت قلوبهم، وإذا سمعوا أمرًا بادروا إليه بلا تردد.
    فطوبى لمن زُيِّن قلبُه بالأدب، وطهُر سرُّه بالمراقبة، وصدق في طلب القرب، وسار إلى الله بلا دعوى ولا رياء.
    اللهم ارزقنا مقامَ الأدبِ معك، وسرَّ القربِ إليك، ونورَ المعرفةِ بك، واجعلنا من عبادك الصادقين المقرَّبين.
    أقول قولي هذا، وأستغفر الله لي ولكم، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم ۝ ✦.═════ ❖ ❖ ═══ ❖الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ ❖ ═══❖ সানী খুতবা
    الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
    وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ.أَمَّا بَعْدُ:
    فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ.
    اللَّهُمَّ إِنِّي أُجَدِّدُ الإِيمَانَ وَالإِسْلَامَ، وَأَتُوبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالآثَامِ.
    أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ جَلَّ جَلَالُهُ تَوْبَةً نَصُوحًا، مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالكَبَائِرِ وَالصَّغَائِرِ، وَمِنَ الشِّرْكِ ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ، مَعْلُومِهِ وَمَجْهُولِهِ.رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا وَرَسُولًا.لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.
    أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَىٰ:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾
    اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ المُهْدَاةِ، الَّذِي بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الأَمَانَةَ وَنَصَحَ الأُمَّةَ.اللَّهُمَّ ارْضَ عَنِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ:
    سَيِّدِنَا أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَسَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، وَسَيِّدِنَا عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَسَيِّدِنَا عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ.
    وَعَنْ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا،
    وَعَنِ الحَسَنِ وَالحُسَيْنِ، وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّاهِرِينَ، وَعَنْ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَالأَوْلِيَاءِ الصَّالِحِينَ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ، وَالمُسْلِمِينَ وَالمُسْلِمَاتِ، الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ.اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الكَذِبِ.اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.
    اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَ وَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.
    ﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾فَاذْكُرُوا اللَّهَ العَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَىٰ نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
    هَيَّا نُقِيمُ الصَّلَاةَ جَمِيعًا۝
    ✅ বাংলা অনুবাদ 🕌 প্রথম খুতবা — “আদবের মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের রহস্য”
    সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদবকে তাঁর নৈকট্যের চাবিকাঠি করেছেন, তাঁর দরবারে পৌঁছানোর রহস্য বানিয়েছেন, সত্যিকারের হৃদয়ের আলো বানিয়েছেন, এবং পবিত্র আত্মার অলংকার বানিয়েছেন।
    আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা হৃদয়কে অহংকার, আত্মগৌরব ও গর্ব থেকে পবিত্র করে এবং গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশান্তির দরজা খুলে দেয়।
    আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল, যিনি আল্লাহর সাথে সর্বোচ্চ আদবের মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন; তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন, এবং তাঁর জীবন ছিল সত্যের পথিকদের জন্য আলো।
    হে আল্লাহ! আপনি দুরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবার ও সাহাবাদের উপর—যারা আদবের রহস্য উপলব্ধি করেছিলেন এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টির মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন।
    অতঃপর:
    হে আল্লাহর বান্দারা! আমি আপনাদের ও আমার প্রতি আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। কারণ তা-ই সকল উচ্চ মর্যাদার ভিত্তি, সকল রূহানী উন্মোচনের রহস্য এবং আল্লাহর নৈকট্যের চাবিকাঠি।জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের রহম করুন—আদবের মর্যাদা হলো সালিকদের (আধ্যাত্মিক পথিকদের) সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং আরেফদের (আল্লাহ-জ্ঞানীদের) সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। এর মাধ্যমেই নৈকট্যের দরজা খুলে যায় এবং বান্দা ও আল্লাহর মাঝে পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হয়।
    আহলে তাসাউফ বলেন:
    “আদব হলো হকের (সত্যের) সাথে দাঁড়িয়ে থাকা, নিজের কোনো দাবি ছাড়াই এবং নফসের দিকে কোনো দৃষ্টি না দেওয়া।”
    গাউসুল আজম শেখ ছৈয়দ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) বলেন:
    “যে আল্লাহর সাথে আদব বজায় রাখে, আল্লাহ তার জন্য নৈকট্যের দরজা খুলে দেন; আর যে আদব ছেড়ে দেয়, সে আল্লাহর দরবার থেকে পর্দাবৃত হয়ে যায়।”
    ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) বলেন:
    “সব পথ বন্ধ, কেবল তার জন্য খোলা—যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণ করে এবং তাঁর আদব গ্রহণ করে।”
    অতএব আল্লাহর নৈকট্য কেবল বেশি আমলের মাধ্যমে নয়, বরং প্রতিটি অবস্থায়—গোপনে ও প্রকাশ্যে, দুঃখে ও সুখে—আল্লাহর সাথে উত্তম আদব বজায় রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
    হে আল্লাহর পথে চলা পথিকেরা! জেনে রাখোন—নৈকট্যের রহস্য হলো নফস থেকে ফানা (বিলুপ্তি) হওয়া এবং আল্লাহর সাথে“বাক্বা বিল্লাহ (بقاء بالله)”। যে নিজের নফস থেকে বিলুপ্ত হয়, সে তার রবের নূরে বেঁচে থাকে; আর যে নিজের নফসের সাথে থাকে, সে আল্লাহর দরবার থেকে পর্দাবৃত হয়ে যায়।অনেক আহলে তরিকত বলেন:
    “যে আদবের মাধ্যমে নিজের পরিচয় লাভ করে, সে নৈকট্যের মাধ্যমে তার রবকে চিনে।”
    তারা আরও বলেন:
    “নৈকট্য কেবল বেশি আমলের দ্বারা অর্জিত হয় না, বরং সত্যিকারের আদবের দ্বারা অর্জিত হয়।”
    সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ছিলেন সর্বাধিক আদবসম্পন্ন মানুষ। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর আনুগত্যে নিজেদের বিলীন করে দিয়েছিলেন। যখন আল্লাহর কথা বলা হতো, তাদের হৃদয় কেঁপে উঠত; যখন কোনো নির্দেশ আসত, তারা দেরি না করে তা পালন করতেন।
    সুতরাং ধন্য সে ব্যক্তি, যার হৃদয় আদব দ্বারা সজ্জিত, যার অন্তর মুরাকাবা দ্বারা পবিত্র, এবং যে সত্যতার সাথে আল্লাহর নৈকট্য চায়—অহংকার ও প্রদর্শন ছাড়া।
    হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার সাথে আদবের মর্যাদা দান করুন, আপনার নৈকট্যের রহস্য দান করুন, আপনার معرفত (পরিচয়) এর নূর দান করুন, এবং আমাদেরকে আপনার সত্যবাদী নিকটবর্তী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
    আমি যা বলেছি তা বললাম, এবং আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অতএব তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।🕌

তরিকা বিভাগের আরো খবর

আরও খবর