═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَةِ (27) ❖ ═══ ❖ পরিবারের সংশোধনই উম্মতের সংশোধনের ভিত্তি ═══ ❖فَصَلَاحُ الأُسْرَةِ أَسَاسُ صَلَاحِ الأُمَّةِ ❖ ═══ ❖۝


admin77 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন / ০
═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَةِ (27) ❖     ═══ ❖     পরিবারের সংশোধনই উম্মতের সংশোধনের ভিত্তি       ═══ ❖فَصَلَاحُ الأُسْرَةِ أَسَاسُ صَلَاحِ الأُمَّةِ    ❖   ═══ ❖۝
৫৯

═══ ❖ خُطْبَةُ الْجُمُعَةِ (27) ❖ ═══ ❖ পরিবারের সংশোধনই উম্মতের সংশোধনের ভিত্তি ═══ ❖فَصَلَاحُ الأُسْرَةِ أَسَاسُ صَلَاحِ الأُمَّةِ ❖ ═══ ❖۝ الحمدُ للهِ الذي جعلَ الصلاةَ عمادَ الدين، والزكاةَ طُهرةً للمالِ والنفس، والصلاةُ والسلامُ على سيدنا محمدٍ ﷺ الذي ربّى الأمةَ على إقامةِ العبادةِ في البيوتِ قبلَ المساجد. أمّا بعد، فإنَّ من أعظمِ صفاتِ الأنبياءِ عنايتُهم بأهلِهم، تربيةً وتوجيهاً إلى طاعةِ اللهِ تعالى.
📖 القول العربي قال اللهُ تعالى: ﴿وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا﴾
(سورة مريم: ٥٥)
🕌 البيان العربي إنَّ نبيَّ اللهِ إسماعيلَ عليهِ السلامُ يُعَدُّ نموذجًا فريدًا في الجمعِ بين العبادةِ الفرديةِ والمسؤوليةِ الأسرية، فقد مدحهُ اللهُ تعالى بصفةٍ عظيمةٍ وهي أنهُ كانَ يأمرُ أهلَهُ بالصلاةِ والزكاةِ، وهذا يدلُّ على أنَّ الإصلاحَ الحقيقيَّ يبدأُ من داخلِ البيتِ قبلَ أن يمتدَّ إلى المجتمع.
فالصلاةُ ليست مجردَ حركاتٍ وسكنات، بل هي صلةٌ بين العبدِ وربِّه، وإذا أُقيمت في البيتِ نشأ الأبناءُ على مراقبةِ اللهِ، وتعظيمِ شعائرِه. وكذلك الزكاةُ تُربي في النفسِ روحَ البذلِ والعطاءِ، وتُطهِّرُ القلوبَ من الشحِّ والبخلِ، فإذا اجتمعَ الأمرانِ في الأسرةِ، تحقَّقَ التوازنُ بين حقِّ اللهِ وحقِّ العباد.
وقد كانَ إسماعيلُ عليهِ السلامُ قدوةً في هذا الباب، فلم يكتفِ بنفسهِ، بل حملَ همَّ هدايةِ أهلِه، لأنَّ النبيَّ ليس مسؤولًا عن نفسهِ فقط، بل عن كلِّ من تحتَ رعايتِه. وهذا يعلِّمُنا أنَّ التربيةَ الإيمانيةَ داخلَ الأسرةِ ليست أمرًا ثانويًا، بل هي أساسُ بناءِ الأمةِ.
وفي هذا السياقِ، قالَ بعضُ السلفِ:
“رَحِمَ اللهُ عبدًا أيقظَ أهلَهُ للصلاةِ، فإنْ أبوا رشَّ على وجوهِهم الماءَ”،
إشارةً إلى أهميةِ الحرصِ على إقامةِ الصلاةِ في البيتِ، ولو بأساليبِ التذكيرِ اللطيفة.
كما أنَّ قولهُ تعالى: ﴿وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا﴾ يدلُّ على أنَّ رضا اللهِ لا يتحقَّقُ بالعبادةِ الفرديةِ فقط، بل بالسعيِ في إصلاحِ الأسرةِ والمجتمعِ، لأنَّ الدينَ منهجُ حياةٍ شامل.
فليتأسَّ المؤمنونَ بإسماعيلَ عليهِ السلامُ، فيجعلوا بيوتَهم محاضنَ للعبادةِ، ومراكزَ للنورِ الإيماني، فيأمروا أبناءَهم بالصلاةِ، ويغرسوا فيهم حبَّ الطاعةِ، ليكونوا جيلًا صالحًا يُرضي اللهَ تعالى.
الخاتمة فَصَلَاحُ الأُسْرَةِ أَسَاسُ صَلَاحِ الأُمَّةِ، وَمَنْهَجُ الأَنْبِيَاءِ يَبْدَأُ مِنَ البَيْتِ، فَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ عَامِرَةً بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، تَنَالُوا رِضَا اللَّهِ وَالفَلَاحَ الدَّائِمَ.۝

.═════ ❖ ❖ ═══ ❖الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ ❖ ═══❖
الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ.أَمَّا بَعْدُ:
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ.
اللَّهُمَّ إِنِّي أُجَدِّدُ الإِيمَانَ وَالإِسْلَامَ، وَأَتُوبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالآثَامِ.
أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ جَلَّ جَلَالُهُ تَوْبَةً نَصُوحًا، مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالكَبَائِرِ وَالصَّغَائِرِ، وَمِنَ الشِّرْكِ ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ، مَعْلُومِهِ وَمَجْهُولِهِ.رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا وَرَسُولًا.لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.
أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَىٰ:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ المُهْدَاةِ، الَّذِي بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الأَمَانَةَ وَنَصَحَ الأُمَّةَ.اللَّهُمَّ ارْضَ عَنِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ:
سَيِّدِنَا أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَسَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، وَسَيِّدِنَا عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَسَيِّدِنَا عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ.
وَعَنْ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا،
وَعَنِ الحَسَنِ وَالحُسَيْنِ، وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّاهِرِينَ، وَعَنْ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَالأَوْلِيَاءِ الصَّالِحِينَ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ، وَالمُسْلِمِينَ وَالمُسْلِمَاتِ، الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ.اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الكَذِبِ.اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَ وَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾فَاذْكُرُوا اللَّهَ العَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَىٰ نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
هَيَّا نُقِيمُ الصَّلَاةَ جَمِيعًا ۝
.🕋 ভূমিকা (অনুবাদ)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নামাজকে দ্বীনের স্তম্ভ এবং যাকাতকে সম্পদ ও আত্মার পবিত্রতা করেছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী রাসুলে মোস্তফা ﷺ-এর উপর, যিনি উম্মতকে শিখিয়েছেন—মসজিদের আগে ঘরেই ইবাদত প্রতিষ্ঠা করতে। অতঃপর, নবী আঃ দের অন্যতম মহান বৈশিষ্ট্য হলো—তারা নিজেদের পরিবারকে আল্লাহর আনুগত্যের পথে গড়ে তুলতেন।
📖 আরবী আয়াতের অনুবাদ
“এবং তিনি তাঁর পরিবারকে নামাজ ও যাকাতের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে সন্তুষ্ট (প্রিয়) ছিলেন।”
(সূরা মারিয়াম: ৫৫)
🕌 নবী ইসমাইল (আ.) ছিলেন এমন এক অনন্য আদর্শ, যিনি ব্যক্তিগত ইবাদত ও পারিবারিক দায়িত্ব—উভয়কেই একত্রে পালন করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে মহান গুণে ভূষিত করেছেন তা হলো—তিনি তাঁর পরিবারকে নামাজ ও যাকাতের নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রকৃত সংশোধন ও সংস্কার শুরু হয় নিজের ঘর থেকেই, এরপর তা সমাজে বিস্তৃত হয়।
নামাজ শুধু কিছু শারীরিক ক্রিয়া নয়; এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক। যদি ঘরে নামাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই আল্লাহভীতি ও দ্বীনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে। তেমনি যাকাত মানুষের অন্তরে দানশীলতা সৃষ্টি করে এবং কৃপণতা দূর করে। যখন একটি পরিবারে এই দুই ইবাদত একত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন আল্লাহর হক ও বান্দার হকের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।হযরত ইসমাইল (আ.) শুধু নিজে নেক আমল করেই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি তাঁর পরিবারের হেদায়েতের দায়িত্বও বহন করেছেন। কারণ একজন নবীআঃ শুধু নিজের জন্য দায়িত্বশীল নন, বরং তাঁর অধীনস্থ সবার জন্যই দায়িত্ববান। এখান থেকে আমরা শিক্ষা পাই—পরিবারে ঈমানি শিক্ষা দেওয়া কোনো গৌণ বিষয় নয়; বরং এটি একটি আদর্শ সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি।
এই প্রসঙ্গে পূর্বসূরিদের একটি বাণী উল্লেখযোগ্য:
“আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে তার পরিবারকে নামাজের জন্য জাগায়; যদি তারা না ওঠে, তবে সে তাদের মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।”
এর মাধ্যমে বোঝা যায়—ঘরে নামাজ কায়েম করার ব্যাপারে আন্তরিক প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—“তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে সন্তুষ্ট ছিলেন।” এর অর্থ হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার ও সমাজকে সৎপথে পরিচালনার মধ্যেও নিহিত। কারণ ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
অতএব, মুমিনদের উচিত ইসমাইল (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা—নিজেদের ঘরকে ইবাদতের কেন্দ্র বানানো, সন্তানদের নামাজের আদেশ দেওয়া এবং তাদের অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি করা, যাতে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।
❖উপসংহার
পরিবারের সংশোধনই সমাজের সংশোধনের ভিত্তি। নবী আঃদের পথ ঘর থেকেই শুরু হয়। তাই তোমাদের ঘরকে নামাজ ও যাকাতে সমৃদ্ধ করো, তবেই পাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও স্থায়ী সফলতা।۝

আমাদের সম্পর্কে বিভাগের আরো খবর

আরও খবর