দাম্পত্য জীবনে উত্তম আচরণের বিধান—কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে।


admin77 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ন / ০
দাম্পত্য জীবনে উত্তম আচরণের বিধান—কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে।
২৪৫

حُكْمُ حُسْنِ المُعَاشَرَةِ الزَّوْجِيَّةِ فِي ضَوْءِ القُرْآنِ وَالسُّنَّةِ
অর্থ: দাম্পত্য জীবনে উত্তম আচরণের বিধান—কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে।بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর নামে সুরু করছি যিনি চির করুনাময় চির অতিবয় দয়ালু।

🕋 الخُطْبَةُ الأُولَى
الحمدُ للهِ ربِّ العالمين، والصلاةُ والسلامُ على سيدِنا محمدٍ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وعلى آله وصحبه وأوليائه أجمعين. أمّا بعد فإنَّ الحياةَ الزَّوجيَّةَ في الإسلامِ تقومُ على أُسُسٍ راسخةٍ من المودَّةِ والرَّحمةِ والتَّفاهم، وقد بيَّنَ القرآنُ الكريمُ والسُّنَّةُ النبويَّةُ هذه الأُسُسَ بيانًا شافيًا، كما فصَّلَ الفقهاءُ أحكامَها بما يُحقِّقُ السَّعادةَ والاستقرارَ للأسرةِ المسلمة.
قال اللهُ تعالى:﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً﴾ [الروم: 21].
قال الإمامُ الطَّبريُّ رحمهُ اللهُ في تفسيرِ هذه الآية: “أي لتأنسوا بها، وتسكنَ نفوسُكم إليها، وجعلَ بينكم مودةً وهي المحبَّة، ورحمةً وهي الشفقةُ والرأفةُ”. فهذا يدلُّ على أنَّ الأصلَ في العلاقةِ الزوجيَّةِ هو السَّكينةُ القلبيَّةُ، لا النزاعُ والشقاق.
وقال تعالى:﴿هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ﴾ [البقرة: 187].قال ابنُ كثيرٍ رحمهُ اللهُ: “أي هنَّ سكنٌ لكم، وأنتم سكنٌ لهنَّ، وكلٌّ منكما يَسترُ صاحبَه ويُحصِّنُه”. وهذا تشبيهٌ بليغٌ يدلُّ على شدَّةِ القربِ والالتصاقِ، وأنَّ كُلًّا من الزوجينِ سترٌ للآخرِ في العيوبِ والخصوصيَّات.
ومن السُّنَّةِ النبويَّةِ، قال رسولُ اللهِ ﷺ:
«خيرُكم خيرُكم لأهلِهِ، وأنا خيرُكم لأهلي» (رواه الترمذي).
وقال ﷺ أيضًا:«استوصوا بالنِّساءِ خيرًا» (متفقٌ عليه).
فهذه الأحاديثُ تُؤكِّدُ على حسنِ المعاشرةِ، والرفقِ بالزوجةِ، والقيامِ بحقوقِها دونَ ظلمٍ أو تعسُّف.
ومن حقوقِ الزوجةِ على زوجِها: النفقةُ، والسُّكنى، والمعاملةُ بالمعروفِ. قال تعالى:﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾ [النساء: 19].قال الإمامُ القرطبيُّ رحمهُ اللهُ: “أي على ما أمرَ اللهُ به من حسنِ الصحبةِ، وجميلِ العشرةِ، من غيرِ أذًى ولا ضررٍ”.ومن جهةِ الفقهِ، قال الإمامُ أبو حنيفةَ رحمهُ اللهُ: “يجبُ على الزوجِ نفقةُ زوجتِهِ بالمعروفِ، وإن كانت غنيَّةً”، لأنَّ النفقةَ حقٌّ ثابتٌ بالعقدِ، لا بالحاجة.
وقال الإمامُ الشافعيُّ رحمهُ اللهُ: “على الزوجِ أن يُحسنَ خُلُقَه مع زوجتِهِ، ويصبرَ على ما قد يَصدرُ منها، فإنَّ ذلك من تمامِ المروءةِ والدِّين”.
أمَّا حقوقُ الزوجِ على زوجتِهِ، فمنها الطاعةُ في المعروفِ، وحفظُ نفسها ومالِ زوجِها. قال النبيُّ ﷺ:
«إذا صلَّت المرأةُ خمسَها، وصامت شهرَها، وحفظت فرجَها، وأطاعت زوجَها، قيل لها: ادخلي الجنةَ من أيِّ أبوابِ الجنةِ شئتِ» (رواه أحمد).
وقال ﷺ:«لو كنتُ آمرًا أحدًا أن يسجدَ لأحدٍ، لأمرتُ المرأةَ أن تسجدَ لزوجِها، لعِظمِ حقِّه عليها» (رواه الترمذي).قال الإمامُ النوويُّ رحمهُ اللهُ: “فيه بيانُ عِظمِ حقِّ الزوجِ، ووجوبُ طاعتِه في غيرِ معصيةِ اللهِ تعالى”.
ومن الآدابِ المهمَّةِ في الحياةِ الزوجيَّةِ: التَّغافلُ عن الزَّلاتِ، وكتمانُ الأسرارِ، والتشاورُ في الأمورِ. قال تعالى:
﴿فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا﴾ [النساء: 19].
قال ابنُ عطيةَ رحمهُ اللهُ: “في هذه الآيةِ حضٌّ على الصبرِ على الزوجةِ، واحتمالِ ما يكونُ منها”.
كما ينبغي للزوجينِ أن يلتزما بالحوارِ الهادئِ، والابتعادِ عن الشِّدَّةِ والغلظةِ، فإنَّ ذلك أدعى لبقاءِ المودَّةِ.
وخلاصةُ القولِ: أنَّ الحياةَ الزوجيَّةَ في الإسلامِ ليست مجرَّدَ علاقةٍ دنيويَّةٍ، بل هي عبادةٌ وقربةٌ إلى اللهِ تعالى، تقومُ على الحقوقِ والواجباتِ، والمحبَّةِ والرحمةِ، والعدلِ والإحسان. فإذا التزمَ الزوجانِ بهذه التعاليمِ القرآنيَّةِ والنبويةِ، نالوا السعادةَ في الدنيا، والفوزَ في الآخرة.
نسألُ اللهَ تعالى أن يُصلحَ بيوتَ المسلمين، ويجعلَها قائمةً على الطاعةِ والمودَّةِ والرحمةِ، إنَّه وليُّ ذلك والقادرُ عليه. وصلى اللهُ على سيدنا محمدٍ وعلى آله وصحبه أجمعين.
খুতবা: কুরআন, সুন্নাহ ও ফকীহদের বাণীর আলোকে দাম্পত্য জীবন
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি সকল জগত সমূহের প্রতিপালক। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর,যিনি জগত সমূহের জন্য রহমত তাঁর পরিবার সকল সাহাবী ও আওলিয়াগন দের উপর। অতঃপর—
নিশ্চয়ই ইসলামে দাম্পত্য জীবন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা হলো ভালোবাসা, দয়া ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। পবিত্র কুরআন ও হাদীস এ ভিত্তিগুলোকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং ফকীহগণ এর বিধানসমূহ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যাতে মুসলিম পরিবারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿আর আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হলো—তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও, এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন﴾ (সূরা রূম: ২১)।
ইমাম তাবারী (রহ.) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন: “অর্থাৎ, তোমরা তাদের দ্বারা প্রশান্তি লাভ করবে, তোমাদের অন্তর তাদের দিকে শান্ত হবে। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ‘মাওয়াদ্দাহ’ অর্থাৎ ভালোবাসা এবং ‘রহমাহ’ অর্থাৎ দয়া ও মমতা স্থাপন করেছেন।”
এ থেকে বুঝা যায়, দাম্পত্য সম্পর্কের মূল হলো অন্তরের প্রশান্তি, ঝগড়া-বিবাদ নয়।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
﴿তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক﴾ (সূরা বাকারা: ১৮৭)।
ইবন কাসীর (রহ.) বলেন: “অর্থাৎ তারা তোমাদের শান্তির স্থান এবং তোমরাও তাদের শান্তির স্থান। তোমাদের প্রত্যেকে অপরজনকে ঢেকে রাখে ও রক্ষা করে।”
এটি একটি গভীর উপমা, যা দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক আড়াল রাখার শিক্ষা দেয়।
হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম।”
আরও বলেন:
“নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।”
এই হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, স্ত্রীর সাথে সুন্দর আচরণ, নম্রতা ও দয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্ত্রীর অধিকারসমূহের মধ্যে রয়েছে—ভরণপোষণ, বাসস্থান এবং উত্তম আচরণ। আল্লাহ বলেন:
﴿তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ কর﴾ (সূরা নিসা: ১৯)।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: “অর্থাৎ আল্লাহ যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী সুন্দর সহবাস, উত্তম আচরণ এবং কোনো প্রকার কষ্ট বা ক্ষতি না দেওয়া।”
ফিকহ অনুযায়ী, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: “স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়া আবশ্যক, যদিও স্ত্রী ধনী হয়।”
কারণ, ভরণপোষণ বিবাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি অধিকার।
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: “স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাথে সুন্দর চরিত্র প্রদর্শন করা এবং তার কোনো ভুল হলে ধৈর্য ধারণ করা—এটি পূর্ণ মানবিকতা ও দ্বীনের অংশ।”
অন্যদিকে, স্বামীর উপর স্ত্রীর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি স্ত্রীর উপরও স্বামীর অধিকার রয়েছে। যেমন—সৎ কাজে স্বামীর আনুগত্য করা, নিজের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ রক্ষা করা।
রাসূল ﷺ বলেন:
“যখন কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমযানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তখন তাকে বলা হবে—তুমি জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ কর।”
আরও বলেন:
“আমি যদি কাউকে কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে স্বামীকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম—তার অধিকারের গুরুত্বের কারণে।”
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “এতে স্বামীর অধিকারের গুরুত্ব এবং আল্লাহর অবাধ্যতা ছাড়া তার আনুগত্য করা আবশ্যক—এ কথা প্রমাণিত হয়।”
দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে—ছোটখাটো ভুল উপেক্ষা করা, গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং পারস্পরিক পরামর্শ করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছো যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন﴾ (সূরা নিসা: ১৯)।
ইবন আতিয়্যা (রহ.) বলেন: “এই আয়াতে স্ত্রীর প্রতি ধৈর্য ধারণ ও সহনশীলতার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়াও, স্বামী-স্ত্রীর উচিত শান্তভাবে কথা বলা এবং কঠোরতা ও রূঢ়তা থেকে দূরে থাকা। কারণ, এতে ভালোবাসা স্থায়ী হয়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়—ইসলামে দাম্পত্য জীবন শুধু পার্থিব সম্পর্ক নয়; বরং এটি একটি ইবাদত, যা অধিকার ও দায়িত্ব, ভালোবাসা ও দয়া, ন্যায় ও সদাচরণের উপর প্রতিষ্ঠিত।
যদি স্বামী-স্ত্রী এ কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাগুলো মেনে চলে, তবে তারা দুনিয়াতে সুখ এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে।
আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করি—তিনি যেন মুসলমানদের ঘরবাড়িকে সংশোধন করেন এবং তা আনুগত্য, ভালোবাসা ও দয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এ বিষয়ে ক্ষমতাবান।
ওয়াসাল্লাল্লাহু আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাঈন।🌹 الخطبة الثانية اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَأَوْلِيَائِهِ أَجْمَعِينَ.
أَمَّا بَعْدُ، فَيَا عِبَادَ اللَّهِ! أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ، فَإِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَتْقَاهُمْ، وَإِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ هُمُ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
﴿أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ﴾
فَاللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْ أَوْلِيَائِكَ الصَّالِحِينَ، وَارْزُقْنَا مَحَبَّةَ أَهْلِ الْبَيْتِ وَالصَّحَابَةِ أَجْمَعِينَ، وَطَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ الْحِقْدِ وَالْحَسَدِ وَالْبُغْضَاءِ.
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَوَحِّدْ كَلِمَتَنَا عَلَى الْحَقِّ، وَاجْعَلْنَا سَائِرِينَ عَلَى نَهْجِ نَبِيِّكَ ﷺ وَأَوْلِيَائِكَ الصَّالِحِينَ.الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد ﷺ، وعلى آله وأصحابه وأوليائه أجمعين.أمَّا بعد، فيا عباد الله! اتقوا الله حق تقاته، ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون.أيها المؤمنون! إن نبينا محمدًا ﷺ هو سيد الخلق وإمام المرسلين، أرسله الله رحمةً للعالمين، وجعل أصحابه نجومًا يُهتدى بهم، وأولياءه مناراتٍ للهدى.قال الله تعالى:
﴿رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ﴾
فَاتَّبِعُوا سَبِيلَهُمْ، وَتَمَسَّكُوا بِسُنَّتِهِمْ، فَإِنَّ فِيهَا النَّجَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
🌙 درود ও সালাম
أكثروا من الصلاة والسلام على النبي ﷺ، قال الله تعالى:
﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾
اللهم صلِّ وسلم وبارك على سيدنا محمد ﷺ، النور المبين، والرحمة المهداة، الذي بلَّغ الرسالة وأدَّى الأمانة ونصح الأمة.
🟢 الخلفاء الراشدون ও আহলে বাইত
اللهم ارضَ عن الخلفاء الراشدين:
🔹 سيدنا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ – الصِّدِّيقُ الأَكْبَرُ، صَاحِبُ الغَارِ
🔹 سيدنا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ – الفَارُوقُ، أَمِيرُ المُؤْمِنِينَ
🔹 سيدنا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ – ذُو النُّورَيْنِ، جَامِعُ القُرْآنِ
🔹 سيدنا عَلِيٌّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ – أَسَدُ اللَّهِ، بَابُ العِلْمِ
وَعَنِ السِّبْطَيْنِ الكَرِيمَيْنِ:🔹 الحسنِ المجتبى
🔹 الحسينِ الشهيدِ سيدِ الشهداءوَعَن سَائِرِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَالأَوْلِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ.
দোয়া
اللهم اغفر للمؤمنين والمؤمنات، والمسلمين والمسلمات، الأحياء منهم والأموات.
اللهم طهِّر قلوبنا من النفاق، وأعمالنا من الرياء، وألسنتنا من الكذب.
اللهم احفظ بلادَ بَنْغَلَادِيشَ وسائر بلاد المسلمين، واجعلها آمنةً مطمئنةً.
اللهم أصلح أمورنا وأمور العالم، وارفَعِ الفتنَ والمحن، وانشر الرحمة والسلام في الأرض.
সমাপ্তি
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ.
فَاذْكُرُوا اللَّهَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَى نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ، وَجَعَلَنَا مِنَ المَقْبُولِينَ، آمِينَ.
সানি খুতবার হুবহু এবারত এর অনুবাদ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যিনি অতি বেশি, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসার অধিকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও সকল অলীদের উপর।
অতঃপর, হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমি আপনাদেরকে এবং আমাকেও তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি সেই, যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অলীগণ তারা, যারা ঈমান এনেছে এবং সর্বদা তাকওয়া অবলম্বন করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“শুনে রাখ! নিশ্চয়ই আল্লাহর অলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।”
অতএব, হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার নেককার অলীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদেরকে আহলে বাইত ও সকল সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা দান করুন। আমাদের অন্তরগুলোকে বিদ্বেষ, হিংসা ও শত্রুতা থেকে পবিত্র করুন।
হে আল্লাহ! আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো ঠিক করে দিন, আমাদের কথাকে সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ করুন এবং আমাদেরকে আপনার নবী ﷺ ও নেককার অলীদের পথে চলার তাওফিক দান করুন।
(দ্বিতীয় অংশ)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যিনি সকল জগতসমুহের প্রতিপালক। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবার, সাহাবীগণ ও সকল অলীদের উপর।
অতঃপর, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভয় করো এবং মুসলমান অবস্থায় ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।
হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ সমস্ত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলগণের ইমাম। আল্লাহ তাঁকে সমগ্র জগত সমুহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর তাঁর সাহাবীগণকে করেছেন পথপ্রদর্শক নক্ষত্র এবং তাঁর অলীদের করেছেন হেদায়াতের আলোকবর্তিকা।আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।”
অতএব, তোমরা তাদের পথ অনুসরণ করো এবং তাদের সুন্নতকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। নিশ্চয়ই এর মধ্যেই দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি রয়েছে।
দুরুদ ও সালাম
নবী ﷺ-এর উপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করোন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর দুরুদ প্রেরণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর উপর দুরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম প্রেরণ করো।”
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন—যিনি সুস্পষ্ট নূর, হেদায়াতের উপহারস্বরূপ রহমত, যিনি আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতের কল্যাণ কামনা করেছেন।
🟢 খোলাফায়ে রাশেদীন ও আহলে বাইত
হে আল্লাহ! আপনি সন্তুষ্ট হোন খোলাফায়ে রাশেদীনের উপর—
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)—সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী, গুহার সঙ্গী।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)—সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, মুমিনদের আমীর।
হযরত উসমান ইবন আফফান (রাঃ)—দুই নূরের অধিকারী, কুরআন সংকলনকারী।
হযরত আলী (রাঃ)—আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহর সিংহ, জ্ঞানের দ্বার বানিয়েছেন ।
এবং দুই সম্মানিত নাতির উপর—
হযরত হাসান (রাঃ) ও হযরত হুসাইন (রাঃ), যিনি শহীদদের নেতা।
এবং সকল সাহাবী, তাবেঈন, অলী ও নেককারদের উপর।
দোয়া হে আল্লাহ! সকল মুমিন পুরুষ ও নারী, মুসলিম পুরুষ ও নারী—জীবিত ও মৃত সকলকে ক্ষমা করে দিন।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে মুনাফিকি থেকে, আমাদের আমলকে রিয়া থেকে এবং আমাদের জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে পবিত্র করুন।
হে আল্লাহ! বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশকে হেফাজত করুন এবং এগুলোকে নিরাপদ ও শান্তিময় করে দিন।
হে আল্লাহ! আমাদের অবস্থা এবং সমগ্র বিশ্বের অবস্থা সংশোধন করে দিন, ফিতনা, বিপদ ও সংকট দূর করুন এবং সারা পৃথিবীতে রহমত ও শান্তি ছড়িয়ে দিন।
সমাপ্তি
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়, সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো—তিনি তোমাদের স্মরণ করবেন। তাঁর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো—তিনি তোমাদের আরও বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন।
আল্লাহ আমাদের থেকে এবং আপনাদের থেকে (এই আমল) কবুল করুন এবং আমাদেরকে কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।