সুরা ফাতিহা


admin77 প্রকাশের সময় : মার্চ ৮, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ন / ০
সুরা ফাতিহা
২১০

الحمدُ للهِ الَّذي خَلَقَ الإِنسانَ في أَحسَنِ تَقويمٍ،وَجَعَلَ لَهُ عَقلاً وَذِهناً وَقُدرَةً لا تُقارَنُ بِشَيءٍ مِن مَخلوقاتِهِ. .وَالصَّلٰوةُ وَالسَّلَامُ مُعَطَّرَةًوعلى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ النُّوْرِ الْمُجَسَّمِ، وَالْقُدْوَةِ الْأَعْظَمِ، رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ وَعَلٰى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، সু বাসিত দুরুদ ও সালাম বর্ষিতহোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় মুহাম্মাদ ﷺ যিনির জিসিম মোবারকে সুপ্রকাশিত নুর এবং , সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ জগত সমুহের জন্য রহমতের উৎস। সকল আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামদের উপর ।

সূরা ফাতিহা (العَظِيمَةُ – সূরাতুল হামদ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ★الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ★مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ★إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ★اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ★صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ★
রুহানী অর্থ (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি পরম দয়ালু ও চির করুণাময়।
★এটা আল্লাহর নূরের চাবিকাঠি। যার হৃদয়ে এই নাম জেগে ওঠে, তার ভিতর থেকে নফস ও অহংকার ঝরে পড়ে। প্রতিটি কাজ রুহানিয়াতে রঞ্জিত হয়।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।
★ যখন বান্দা এই প্রশংসা করে, তখন সে শুধু মুখে নয়—মন ও আত্মাকে আল্লাহর প্রশংসায় ডুবিয়ে দেয়। আল্লাহর রব্বিয়াত (পালনকারিতা) অনুভব করে আত্মা শান্ত হয়।الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِতিনি পরম দয়ালু ও চির করুনা ময়।
★ আল্লাহর এই দুই গুণ তার সকল সৃষ্টির ওপর ছায়ার মতো। বান্দা যদি হৃদয় দিয়ে এই দুটি নাম স্মরণ করে, তবে তার হৃদয়ে দয়া, শান্তি, ভালোবাসা ও আলো উদয় হয়।مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِতিনি বিচার দিবসের একমাত্র মালিক।
★এটি আত্মাকে জাগ্রত করে। মুমিন বুঝে—এই দুনিয়ার সব কিছু ফানী, কিন্তু একদিন দাঁড়াতে হবে মহা মালিকের সামনে। রুহানীভাবে এটি বান্দার অন্তরকে ভয়ে, লজ্জায় ও ভালোবাসায় রঙিন করে তোলেإِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
শুধু আপনারী ইবাদত করি এবং শুধুই আপনারী সাহায্য চাই।
★আত্মা এখানে একান্ত আত্মসমর্পণ করে। সে বলে: “আমার কোনো শক্তি নেই, আমি কেবল আপনারী গোলাম, আপনারী সাহায্য ছাড়া আমি কিছুই না।” এটা রুহানী সিদক ও তাওয়াজ্জুহের সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি।اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
আমাদেরকে সরল পথ দেখান।
★ এ হলো আত্মার আকুতি। সে চায় এমন পথ যা আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়, যেখানে দুনিয়ার মোহ নেই, শুধুই আল্লাহর নূর ও হেদায়াত। সারা জীবন রুহানী সালুকের জন্য এ আয়াতের দোয়ার দরজা।পীরের রুহানি ফায়েজ তাওয়াজ্জোহ ও হাকীকী চোহবত এর মাধ্যমে উম্মুক্ত হয়। صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْতাদের পথ, যাদের কে আপনি অনুগ্রহ করেছেন।
★নবী,আঃ গন সিদ্দিক,গন সত্য সাবীদের মত যারা চলে শহীদ হয়; এবংআউলিয়াদের পথ—যারা আল্লাহর বন্ধু। রুহ এখানে পীর অলিয়ে কামিলদের সোহবত ও পথ কামনা করে। এটাই তাসাউফের কামনা।
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
না তাদের পথ, যাদের ওপর আপনার গজব নেমেছে এবং না তাদের, যারা পথভ্রষ্ট।
আত্মা যেন ভ্রান্ত দিশা না নেয়। বান্দা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, যাতে সে রুহানী গাফলত ও অহংকারের পথে না চলে যায়। (রুহানী উপলব্ধি):

সূরা ফাতিহা হল বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে এক প্রেমভরা কথোপকথন।

এটি বান্দাকে দুনিয়ার মোহ থেকে টেনে আনে আল্লাহর দয়ার চত্বরে।

আত্মাকে শেখায় কিভাবে আল্লাহর নিকটে পৌছা যায় খাঁটি ভাবে চাওয়া যায়।
এটি প্রতিটি সালাতের হৃদয়, আর রুহানী সফরের প্রথম দরজা।হিদায়াত ও রহমতের দরজায় দরজা খুলে দেয়, অন্তরের আলোর সন্ধানে যখন সালেক স্থিরতা নিয়ে জিকির মোরাকাবা তওবার মজলিসে সময় কাঁটায় ।