✦ ═════ ❖ ❖ ═══ ❖الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ ❖ ═══❖ সানী খুতবা
الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ.أَمَّا بَعْدُ:فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ.اللَّهُمَّ إِنِّي أُجَدِّدُ الإِيمَانَ وَالإِسْلَامَ، وَأَتُوبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالآثَامِ.أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ جَلَّ جَلَالُهُ تَوْبَةً نَصُوحًا، مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالكَبَائِرِ وَالصَّغَائِرِ، وَمِنَ الشِّرْكِ ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ، مَعْلُومِهِ وَمَجْهُولِهِ.رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا وَرَسُولًا.لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَىٰ:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ المُهْدَاةِ، الَّذِي بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الأَمَانَةَ وَنَصَحَ الأُمَّةَ.اللَّهُمَّ ارْضَ عَنِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ:سَيِّدِنَا أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَسَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، وَسَيِّدِنَا عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَسَيِّدِنَا عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ.وَعَنْ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا،
وَعَنِ الحَسَنِ وَالحُسَيْنِ، وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّاهِرِينَ، وَعَنْ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَالأَوْلِيَاءِ الصَّالِحِينَ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ، وَالمُسْلِمِينَ وَالمُسْلِمَاتِ، الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ.اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الكَذِبِ.اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَ وَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾فَاذْكُرُوا اللَّهَ العَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَىٰ نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
هَيَّا نُقِيمُ الصَّلَاةَ جَمِيعًا
অনুবাদ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নামাজকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এটিকে বান্দা ও তাঁর রবের মাঝে একটি সম্পর্ক বানিয়েছেন। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, যিনি নামাজের পদ্ধতি কথা ও কাজের মাধ্যমে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং এতে খুশু ও বিনয়ের দিকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর সুন্নতের মধ্যেই রয়েছে তাকবির, হাত তোলা, দোয়া ও আমিন বলার মাসআলা—যেগুলো নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এ বিষয়ে ফকিহগণ হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে মতভেদ করেছেন, যা বিরোধ নয় বরং দ্বীনের প্রশস্ততা।
📖 ফিকহি বয়ান অনুবাদ
নামাজের পদ্ধতি নবী ﷺ-এর সুন্নতের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে তাকবির, দোয়া এবং আমিন বলা।
যখন মুসল্লি তাকবীরে তাহরিমা বলে, তখন সে নামাজের পবিত্র সীমায় প্রবেশ করে। এরপর সে হাত তোলে—যেমনটি ইবনে উমর (রাঃ)-এর হাদিসে এসেছে যে, নবী ﷺ তাকবিরের সময় হাত তুলতেন।
এরপর সে দোয়া-ইস্তিফতাহ (নামাজ শুরু করার দোয়া) পড়ে। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী ﷺ নামাজ শুরু করতেন দোয়া ও তাসবিহের মাধ্যমে।
এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয়। যখন সে “ওয়ালাদ-দাল্লীন” পর্যন্ত পৌঁছে, তখন মুসল্লিরা “আমিন” বলে। সহীহ হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন:
“যখন ইমাম ‘ওয়ালাদ-দাল্লীন’ বলেন, তখন তোমরা ‘আমিন’ বলো। কারণ যার আমিন ফেরেশতাদের আমিনের সাথে মিলবে, তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)
আমিন জোরে বলা হবে নাকি আস্তে—এ বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাজহাব এটিকে আস্তে বলার মত দিয়েছে, যাতে খুশু বজায় থাকে। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব হাদিসের ভিত্তিতে জোরে বলাকে সুন্নত বলেছেন। মালিকি মাজহাব সাধারণভাবে আস্তে বলার মত দিয়েছেন।
এই মতভেদ প্রকৃতপক্ষে বিরোধ নয়, বরং সুন্নতের বিভিন্ন প্রমাণিত পদ্ধতির সমন্বয়। প্রত্যেকটি মতেরই সহীহ হাদিস রয়েছে, এবং আলেমগণ তাদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে তা গ্রহণ করেছেন।
সুতরাং একজন মুমিনের উচিত সমস্ত সুন্নতকে সম্মান করা এবং যেসব বিষয়ে মতভেদ আছে সেখানে বিভেদ না করা। কারণ দ্বীন প্রশস্ত এবং সুন্নত বিভিন্নভাবে প্রমাণিত।
🔚 উপসংহার (অনুবাদ)
হয়েছে। এতে আলেমদের যে মতভেদ রয়েছে, তা কোনো বিরোধ নয়; বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য রহমত ও প্রশস্ততা। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সুন্নতের অনুসরণ করা, ইমামদের মতামতকে সম্মান করা এবং অন্তরের খুশু ও উম্মতের ঐক্য রক্ষা করা।
যখন ইমাম বলেন: “سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ”—তখন বিনয়ী হৃদয়গুলো নিঃশব্দে বলে ওঠে: “رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ”। এটি উচ্চস্বরে নয়, বরং ইখলাসের ফিসফিসানি, আত্মার বিনয়ী নিবেদন।
আল্লাহ তা‘আলা গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই শোনেন। যেমন তিনি উচ্চস্বরে বলা শুনেন, তেমনি তিনি অন্তরের ফিসফিসানি এবং জিহ্বার নীরব যিকিরও শুনেন। তাঁর কাছে কোনো যিকির হারিয়ে যায় না, কোনো দোয়া গোপন থাকে না।
হানাফি মাজহাবের আলোকে, আমিন ও অন্যান্য যিকির আস্তে বলা হৃদয়ের উপস্থিতি ও খুশুর জন্য অধিক সহায়ক। এতে বান্দা তার নামাজে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক অনুভব করে—একটি নীরব, আন্তরিক ও আত্মিক সংযোগ।। :
অতএব, আমরা আমাদের নামাজকে হেফাজত করি, এবং খুশু ও অন্তরের উপস্থিতির মাধ্যমে তা সৌন্দর্যমণ্ডিত করি। কারণ নামাজ হলো বান্দার তার রবের সাথে সাক্ষাৎ—এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার চাবিকাঠি। 🟢 ২. সহিহ হাদিস (الأحاديث الصحيحة)
🔹 (১) মূল দলিল (متفق عليه)
📖 আরবি:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى تَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ
📚 صحيح البخاري (735)
📚 صحيح مسلم (390)
🟡 বাংলা অনুবাদ:
হযরত ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত উঠাতেন এমনভাবে যে, তা দুই কাঁধের সমান (হাঁটুর/কাঁধের বরাবর) পর্যন্ত পৌঁছাত, এরপর তিনি তাকবির (الله أكبر) বলতেন।
🔹 (২) কানের সমান্তরাল পর্যন্ত
📖 আরবি:
حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ
📚 صحيح مسلم
🟡 পূর্ণ বাংলা অনুবাদ:
তিনি (রাসূল ﷺ) তাঁর দুই হাত এমনভাবে উঠাতেন যে, তা তাঁর দুই কানের লতির সমান্তরাল পর্যন্ত পৌঁছাত।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
👉 প্রথম হাদিসে কাঁধ পর্যন্ত তোলার কথা এসেছে
👉 দ্বিতীয় হাদিসে কানের লতি পর্যন্ত তোলার কথা এসেছে
➡️ এতে বুঝা যায়—হাত তোলার উচ্চতায় বৈচিত্র্য আছে, কিন্তু মূল আমল সুন্নাহ দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।🟢 বিভিন্ন ইমামদের আরবি বক্তব্য (أقوال الأئمة في رفع اليدين)
🔸 ১. ইমাম আবু হানিফা (رحمه الله)
📖 قول الإمام:
يُرْفَعُ اليَدَانِ فِي تَكْبِيرَةِ الِاحْرَامِ فَقَطْ
📚 সূত্র:
بدائع الصنائع (الكاساني)
الهداية (المرغيناني)
🟡 অর্থ: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন—শুধু তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত তোলা হবে, এরপর আর নয়।
🔸 ২. ইমাম শাফেয়ী (رحمه الله)
📖 قول الإمام:
أُحِبُّ رَفْعَ اليَدَيْنِ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، وَعِنْدَ الرُّكُوعِ، وَالرَّفْعِ مِنْهُ
📚 সূত্র:
الأم (الإمام الشافعي)
🟡 অর্থ: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন—আমি পছন্দ করি নামাজের শুরুতে, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময় হাত তোলা।
🔸 ৩. ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (رحمه الله)
📖 قول الإمام:
رَفْعُ اليَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ سُنَّةٌ ثَابِتَةٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
📚 সূত্র:
المغني لابن قدامة
مسائل الإمام أحمد
🟡 অর্থ: ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন—নামাজে হাত তোলা রাসূল ﷺ থেকে প্রমাণিত সুন্নাহ।
🔸 ৪. ইমাম মালিক (رحمه الله)
📖 قول الإمام:
يُسْتَحَبُّ رَفْعُ اليَدَيْنِ فِي تَكْبِيرَةِ الِاحْرَامِ
📚 সূত্র:
المدونة الكبرى
الموطأ (ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ)
🟡 অর্থ: ইমাম মালিক (রহ.) বলেন—তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত তোলা মুস্তাহাব।
🟢 সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ (تحليل فقهي)
✔ চার ইমামই মূল বিষয়টি স্বীকার করেছেন:
👉 তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলা সুন্নাহ
✔ মতভেদ হয়েছে শুধু:
কয়বার হাত তোলা হবে
কোন অবস্থায় পুনরায় তোলা হবে
🟢 গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি নীতি
📖 قاعدة أصولية:
الاختلاف في الفروع رحمة للأمة
🟡 অর্থ: শাখাগত বিষয়ে মতভেদ উম্মাহর জন্য রহমত।
🟢 উপসংহার (خلاصة)
👉 তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলা নিয়ে
চার ইমামই একমত যে এটি রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ।
👉 পার্থক্য শুধু আমলের বিস্তৃত রূপে—
কিন্তু কোন পক্ষই সুন্নাহকে অস্বীকার করেননি।