═════ ❖═══ ❖ (২১) ❖ ═══ ❖আল্লাহ তাআলার নৈকট্যের পথে অগ্রসর হওয়া এবং অন্তরসমূহকে পরিশুদ্ধ করার বিষয়ে খুতবা”21═══ নং জুম্মার নামাজের) । প্রথম খোতবা خُطْبَةٌفِي سُلُوكِ الطَّرِيقِ إِلَى اللَّهِ وَتَهْذِيبِ القُلُوبِ❖
الحمدُ للهِ الذي جعلَ سلوكَ الطريقِ إليه سبيلَ السعادةِ، ونوَّرَ قلوبَ العارفينَ بنورِ الهدايةِ، وطهَّرَ نفوسَ الصادقينَ من دَنسِ الغفلةِ والهوى، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادةً تُحيي القلوبَ بعد موتها، وتُطهِّرُ الأرواحَ من ظلماتها، وأشهدُ أن سيدَنا محمدًا عبدُهُ ورسولُه، الذي دلَّ الأمةَ على طريقِ الحقِّ، وربّى النفوسَ على التزكيةِ والصدقِ والإخلاصِ.
اللهم صلِّ وسلم وبارك على سيدنا محمدٍ، وعلى آله وأصحابه والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ. الذين سلكوا طريقَهُ بإحسانٍ، واتبعوه في الظاهرِ والباطنِ.
أما بعد:
فيا عبادَ الله، أوصيكم ونفسي بتقوى الله، فإنها زادُ السالكين، ومفتاحُ الوصولِ إلى ربِّ العالمين.
اعلموا رحمكم الله أن سلوكَ الطريقِ إلى الله ليس بكثرةِ الأعمالِ الظاهرةِ فقط، ولا بكثرةِ الأقوالِ، وإنما هو تطهيرُ القلبِ من الأغيار، وتصفيةُ السرِّ من الأكدار، ومجاهدةُ النفسِ حتى تنكسرَ بين يدي الله عز وجل.
قال الله تعالى:
﴿قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا﴾
وقال سبحانه:
﴿وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا﴾
فالفلاحُ الحقيقيُّ في تزكيةِ النفسِ، والخيبةُ في اتباعِ الهوى والغفلةِ.
وقال أهلُ التصوفِ:سُلُوكُ الطَّرِيقِ إِلَى اللَّهِ وَتَهْذِيبُ القُلُوبِ —
“السلوكُ إلى الله ليس انتقالًا في المكان، بل انتقالٌ من صفاتِ النفسِ إلى صفاتِ الروحِ.”
وقال سهل التستري رحمه الله:
“لا يصل العبد إلى الله وفي قلبه غيرُ الله.”
وقال أبو يزيد البسطامي رحمه الله:
“خرجتُ من نفسي، فلم أرَ في الطريقِ إلى الله إلا تركَ النفسِ.”
فطريقُ السالكين قائمٌ على ثلاثة أصول: صدقُ التوبة، ومراقبةُ القلب، ومجاهدةُ النفس.
أما التوبةُ فهي الرجوعُ إلى الله من الذنوبِ ظاهراً وباطناً، وأما المراقبةُ فهي أن تعلم أن الله يراك في كل لحظةٍ، وأما المجاهدةُ فهي قهرُ النفسِ عن الشهواتِ والآفاتِ.
وقال الإمام الجنيد البغدادي رحمه الله:
“الطريقُ إلى الله مغلقٌ على الخلق إلا على من اقتفى أثرَ النبي ﷺ.”
فمن أراد الوصولَ فليلتزم بالكتاب والسنة، وليطهّر قلبه من الرياءِ والعجبِ والحسدِ والكبرِ.
أيها المؤمنون، إن القلبَ إذا صلحَ صلحَ الجسدُ كله، وإذا فسدَ فسدَ الجسدُ كله، كما قال النبي ﷺ:
«ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله…»
فصلاحُ القلبِ هو أصلُ السلوكِ إلى الله، ولا يصلح القلب إلا بالذكرِ، والصحبةِ الصالحةِ، والصدقِ مع الله، وتركِ المعاصي.
قال بعضُ العارفين:
“من أراد الطريقَ إلى الله فليترك نفسه، فإن النفسَ حجابُ العارفين.”
اللهم طهِّر قلوبنا من النفاقِ والرياءِ، وزكِّ نفوسنا من العُجبِ والهوى، واجعلنا من السالكين الصادقين إلى حضرتك.
أقول قولي هذا، وأستغفرُ الله لي ولكم، فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم.═════ ❖ ❖ ═══ ❖الخُطْبَةُ الثَّانِيَةُ ❖ ═══❖
الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ والأولياءِ الصالحين أَجْمَعِينَ.أَمَّا بَعْدُ:
فَيَا عِبَادَ اللَّهِ، أُوصِيكُمْ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ.
اللَّهُمَّ إِنِّي أُجَدِّدُ الإِيمَانَ وَالإِسْلَامَ، وَأَتُوبُ إِلَيْكَ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالآثَامِ.
أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ جَلَّ جَلَالُهُ تَوْبَةً نَصُوحًا، مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ وَالكَبَائِرِ وَالصَّغَائِرِ، وَمِنَ الشِّرْكِ ظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ، مَعْلُومِهِ وَمَجْهُولِهِ.رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا وَرَسُولًا.لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.
أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَىٰ:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ، النُّورِ المُبِينِ، وَالرَّحْمَةِ المُهْدَاةِ، الَّذِي بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الأَمَانَةَ وَنَصَحَ الأُمَّةَ.اللَّهُمَّ ارْضَ عَنِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ:
سَيِّدِنَا أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَسَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، وَسَيِّدِنَا عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَسَيِّدِنَا عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ.
وَعَنْ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا،
وَعَنِ الحَسَنِ وَالحُسَيْنِ، وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّاهِرِينَ، وَعَنْ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَالأَوْلِيَاءِ الصَّالِحِينَ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ، وَالمُسْلِمِينَ وَالمُسْلِمَاتِ، الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ.اللَّهُمَّ طَهِّرْ قُلُوبَنَا مِنَ النِّفَاقِ، وَأَعْمَالَنَا مِنَ الرِّيَاءِ، وَأَلْسِنَتَنَا مِنَ الكَذِبِ.اللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَ بَنْغَلَادِيشَ وَسَائِرَ بِلَادِ المُسْلِمِينَ، وَاجْعَلْهَا آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً.
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ أُمُورَنَا وَأُمُورَ العَالَمِ، وَارْفَعِ الفِتَنَ وَالمِحَنَ، وَانْشُرِ الرَّحْمَةَ وَالسَّلَامَ فِي الأَرْضِ.
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي القُرْبَىٰ، وَيَنْهَىٰ عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ، يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾فَاذْكُرُوا اللَّهَ العَظِيمَ يَذْكُرْكُمْ، وَاشْكُرُوهُ عَلَىٰ نِعَمِهِ يَزِدْكُمْ، وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ.
هَيَّا نُقِيمُ الصَّلَاةَ جَمِيعًا
👉 🕌 প্রথম খুতবা — “আল্লাহর পথে চলা ও অন্তরের পরিশুদ্ধি”
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পথে চলাকে সৌভাগ্যের পথ বানিয়েছেন, আরেফদের অন্তরকে হেদায়েতের নূর দ্বারা আলোকিত করেছেন এবং সত্যবাদীদের নফসকে গাফেলতি ও প্রবৃত্তির অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা মৃত হৃদয়কে জীবিত করে এবং আত্মাকে তার অন্ধকার থেকে পবিত্র করে।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা হযরত মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি উম্মতকে সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন এবং নফসকে পরিশুদ্ধি, সত্যনিষ্ঠা ও ইখলাসের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
হে আল্লাহ! আপনি দুরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবার ও সাহাবাদের উপর—যারা তাঁর পথে উত্তমভাবে চলেছেন এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন।
অতঃপর:
হে আল্লাহর বান্দারা! আমি আপনাদের ও নিজেকে তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি। কারণ তা-ই সালিকদের পাথেয় এবং রবের কাছে পৌঁছার চাবিকাঠি।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—আল্লাহর পথে চলা কেবল বাহ্যিক আমলের আধিক্য দ্বারা নয়, কিংবা অধিক কথার মাধ্যমে নয়; বরং তা হলো অন্তরকে অন্যান্য সবকিছু থেকে পবিত্র করা, অন্তরের গভীরতাকে ময়লা থেকে পরিশুদ্ধ করা এবং নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা—যতক্ষণ না তা আল্লাহর সামনে ভেঙে পড়ে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে তার নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে﴾
তিনি আরও বলেন:
﴿আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা কলুষিত করেছে﴾
সুতরাং প্রকৃত সফলতা নফসের পরিশুদ্ধিতে এবং ব্যর্থতা হলো প্রবৃত্তি ও গাফেলত অনুসরণে।
আহলে তাসাউফ বলেন:
“আল্লাহর পথে চলা স্থান পরিবর্তন নয়; বরং নফসের গুণাবলি থেকে রূহের গুণাবলির দিকে পরিবর্তন।”
সাহল তুস্তারী (রহ.) বলেন:
“বান্দা আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে পারে না, যদি তার অন্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু থাকে।”
আবু ইয়াযিদ বস্তামী (রহ.) বলেন:
“আমি আমার নফস থেকে বের হয়ে এসেছি; অতঃপর আল্লাহর পথে আমি নফসকে ত্যাগ করা ছাড়া আর কিছু দেখিনি।”
অতএব সালিকদের পথ তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত: সত্য তওবা, অন্তরের মুরাকাবা এবং নফসের মুজাহাদা।
তওবা হলো—বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুনাহ থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।
মুরাকাবা হলো—তুমি জানবে যে আল্লাহ প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে দেখছেন।
মুজাহাদা হলো—নফসকে প্রবৃত্তি ও দোষ থেকে দমন করা।
ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) বলেন:
“আল্লাহর পথ মানুষের জন্য বন্ধ, তবে তার জন্য খোলা—যে নবী ﷺ-এর অনুসরণ করে।”
অতএব যে ব্যক্তি পৌঁছাতে চায়, সে যেন কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে এবং তার অন্তরকে রিয়া, আত্মগর্ব, হিংসা ও অহংকার থেকে পবিত্র করে।
হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই অন্তর যদি ঠিক হয়, তবে সমগ্র দেহ ঠিক হয়ে যায়; আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়—যেমন নবী ﷺ বলেছেন:
“জেনে রাখো, শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে; যদি তা ভালো হয়, তবে পুরো দেহ ভালো হয়…”
সুতরাং অন্তরের সংশোধনই আল্লাহর পথে চলার মূল ভিত্তি। আর অন্তর সংশোধিত হয় যিকির, নেককারদের সঙ্গ, আল্লাহর সাথে সত্যনিষ্ঠা এবং গুনাহ পরিত্যাগের মাধ্যমে।
কিছু আরেফ বলেন:
“যে আল্লাহর পথে চলতে চায়, সে যেন তার নফসকে ত্যাগ করে; কারণ নফসই আরেফদের জন্য পর্দা।”
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে নিফাক ও রিয়া থেকে পবিত্র করুন, আমাদের নফসকে আত্মগর্ব ও প্রবৃত্তি থেকে পরিশুদ্ধ করুন এবং আমাদেরকে আপনার দরবারের দিকে চলা সত্যবাদী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
আমি যা বলেছি তা বললাম, এবং আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অতএব তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও—নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।